৫/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬২৬-[১১] - মৃত্যুপথযাত্রীকে কালিমা শেখানো
মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয় - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মৃত্যুপথযাত্রীকে কালিমা তালকীনের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৬২৬-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৬২৬-[১১]
وَعَن عَبْدِ اللّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيْمُ سُبْحَانَ اللّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ الْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللّهِ كَيْفَ لِلْأَحْيَاءِ؟ قَالَ: «أَجْوَدُ وْأَجْوَدُ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
'আবদুল্লাহ ইবনু জা'ফার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মৃত্যুপথযাত্রীকে এ কালিমার তালকীন দেবে, “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হুল হালীমুল কারীম, সুবহা-নাল্ল-হি রব্বিল ‘আরশিল ‘আযীম, আলহামদুলিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন”। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সুস্থ জীবিত ব্যক্তিদেরকে এ কালিমা শিখানো কেমন? তিনি বললেন, খুব উত্তম। খুব উত্তম। (ইবনু মাজাহ্) [১]
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ১৪৪৬, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৪৩১৭, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৭০৭। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, ইসহাক বিন ‘আবদুল্লাহ মাজহূল রাবী যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেছেন। আর কাসীর বিন যায়দ সদুক কিন্তু ভুল করেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬২৬-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মৃত্যুপথযাত্রীকে একটি কালিমা তালকীন দিতে বলেছেন। এতে আছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহর গুণের স্মরণ, আরশের রবের পবিত্রতা এবং সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এই অর্থবহ বাক্যগুলো। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, সুস্থ জীবিত মানুষকে এ কালিমা শেখানো কেমন? নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, খুব উত্তম। এই কথায় বোঝা যায়, মৃত্যুর সময় আল্লাহর স্মরণ যেমন প্রয়োজন, জীবিত অবস্থায়ও তা শেখা ভালো। হাদিসটি তালকীন, তাওহীদ, দোয়া, আল্লাহর প্রশংসা এবং শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। এখানে কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথা নেই; বরং স্মরণ করানো ও শেখানোর কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত্যুপথযাত্রীকে আল্লাহর স্মরণ করানো দরকার।
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তাওহীদের মূল কথা।
- জীবিত অবস্থায় দোয়া ও কালিমা শেখা উত্তম।
- শেষ সময়ের প্রস্তুতি জীবনের আগেই শুরু করা উচিত।
