৬/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৮১-[১০] - যাকাত ও উত্তম গচ্ছিত সম্পদ

যাকাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

যাকাতের বিধান ও উত্তম গচ্ছিত সম্পদ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৮১-[১০]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ ﴿وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ﴾ [التوبة 9 : 34] كَبُرَ ذلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ. فَقَالَ عُمَرُ أَنَا أُفَرِّجُ عَنْكُمْ فَانْطَلَقَ. فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللّهِ قَدْ كَبُرَ عَلى أَصْحَابِكَ هذِهِ الْايَةُ. فَقَالَ نَبِيُّ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ اللّهَ لَمْ يَفْرِضِ الزَّكَاةَ إِلَّا لِيُطَيِّبَ بهَا مَا بَقِيَ مِنْ أَمْوَالِكُمْ وَإِنَّمَا فَرَضَ الْمَوَارِيْثَ وَذَكَرَ كَلِمَةً لِتَكُوْنَ لِمَنْ بَعْدَكُمْ قَالَ فَكَبَّرَ عُمَرُ. ثُمَّ قَالَ لَه: «أَلَا أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفِظَتْهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যখন এ আয়াত, وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ অর্থাৎ “যেসব লোক সোনা-রূপা জমা করে রাখে”-(সূরাহ্‌ আত্‌ তাওবাহ্‌ ৯ : ৩৪) আয়াতের শেষ পর্যন্ত নাযিল হল তখন সহাবীগণ চিন্তিত হয়ে পড়ল। উমর (রাঃ) বলেন, আমি তোমাদের এ দুশ্চিন্তা নিরসন করে দিচ্ছি। তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলেন। তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর নবী! এ আয়াত তো আপনার সাথীদের জন্য ভারি বোঝা হয়েছে।(এ কথা শুনে) নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা (সকল ব্যয় নির্বাহের পর) অবশিষ্ট মাল পবিত্র করার ব্যবস্থা স্বরূপ তোমাদের ওপর যাকাত ফার্‌য করেছেন। আল্লাহ তা’আলা এজন্যই ওয়ারিস ঠিক করে দিয়েছেন। এরপর তিনি এ বাক্য উল্লেখ করলেন, যেন তোমাদের পরবর্তীরা যাতে এ মালের মালিক হয়ে যায়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে উমর ‘আল্ল-হু আকবার’ বলে উঠলেন। তারপর তিনি (ﷺ) উমরকে বললেন, আমি কি তোমাকে মানুষের সবচেয়ে উত্তম গচ্ছিত বস্তু সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হলো চরিত্রবান স্ত্রী। স্বামী যখন তার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে খুশী হয়ে যাবে, তাকে কোন হুকুম করলে পালন করবে, সে ঘরে না থাকলে তার ধন-সম্পদের সুরক্ষা করবে। (আবূ দাঊদ) [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৬৬৪, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৮৭। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটির সানাদ বাহ্যিকভাবে সহীহ হলেও মূলত তা মা‘লুল। কারণ গায়লান এবং জা‘ফার ইবনু ইয়াস-এর মধ্যে অনুল্লিখিত একজন রাবী রয়েছে তিনি ‘উসমান আবুল ইয়াক্বযান যিনি একজন দুর্বল রাবী।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৮১-[১০]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে যাকাতের বিধান খুব সহজভাবে বোঝানো হয়েছে। সোনা-রূপা জমা রাখার আয়াত নাযিল হলে সাহাবীগণ চিন্তিত হয়ে পড়েন। তখন উমর (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যান। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, আল্লাহ যাকাত ফরজ করেছেন যেন মানুষের বাকি সম্পদ পবিত্র হয়। অর্থাৎ যাকাত শুধু সম্পদ কমিয়ে দেয় না; বরং সম্পদের হক আদায়ের মাধ্যমে মালকে পরিষ্কার করে। এখানে মীরাসের কথাও এসেছে, যাতে মানুষের মৃত্যুর পর সম্পদ পরবর্তী লোকদের কাছে যায়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের উত্তম গচ্ছিত বস্তু হিসেবে চরিত্রবান স্ত্রীর কথা বলেন। তিনি স্বামীকে আনন্দ দেন, বৈধ নির্দেশ মানেন এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও আমানত রক্ষা করেন। তাই এই হাদিসে যাকাতের গুরুত্ব এবং পরিবারে চরিত্রের মূল্য একসাথে উঠে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যাকাত সম্পদের হক আদায়ের মাধ্যমে বাকি মালকে পবিত্র করার একটি বড় উপায়।
  • আল্লাহ মীরাসের বিধান দিয়েছেন, যাতে মৃত্যুর পর সম্পদ নির্ধারিত হকদারদের কাছে যায়।
  • চরিত্রবান স্ত্রী সংসারে শান্তি, আমানতদারি ও আনন্দের কারণ হতে পারেন।
  • সাহাবীগণ কুরআনের নির্দেশ শুনে চিন্তিত হলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে সমাধান চাইতেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন