৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৮০-[৯] - সূঁচ পরিমাণ গোপন করাও খিয়ানত
যাকাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। এটা শারী‘আতের একটি শক্তিশালী বিষয়। যে ব্যক্তি যাকাতের ফারযিয়্যাতকে অমান্য করবে সে কাফির হয়ে যাবে। যাকাতের লাগবী অর্থ বৃদ্ধি, বারাকাত ও পবিত্র করা। যাকাত আদায় করলে মাল বৃদ্ধি পায় ও মাল পবিত্র হয়। আর যাকাত আদায়কারী গুনাহ থেকে পবিত্র হয়। আর যাকাতের শার‘ঈ অর্থ হলো নিসাব পূর্ণ সম্পদে এক বৎসর অতিবাহিত হলে তা ফকীর, মিসকীন ও অন্যান্যদের মাঝে নির্ধারিত পন্থায় আদায় করা।অতঃপর যাকাতের রুকন, কারণ হিকমাত ও শর্ত রয়েছে। তা ফরয হওয়ার কারণ হলো মালের মালিক হওয়া। যাকাতের শর্ত হলো (মালের ক্ষেত্রে) নিসাব পরিমাণ হওয়া, বৎসর পূর্ণ হওয়া এবং (ব্যক্তির ক্ষেত্রে) বালেগ ও স্বাধীন হওয়া। হিকমাত হলো দুনিয়ার কর্তব্য পালন হওয়া এবং আখিরাতের সাওয়াব ও দরজা অর্জন হওয়া। আর গুনাহ হতে পবিত্র হওয়া এবং কৃপণতার দায় থেকে বাঁচা।প্রকাশ থাকে যে, অধিকাংশ ‘উলামাদের মতে যাকাত হিজরতের পর ফরয হয়। তারা দ্বিতীয় হিজরীতে ফরয হওয়ার মত ব্যক্ত করেন। কেউ কেউ বলেন, হিজরতের পূর্বে ফরয হয়েছে।
আমানতে খিয়ানত: সূঁচ পরিমাণ গোপনও বিপদ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৭৮০-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৮০-[৯]
وَعَنْ عَدِيِّ بْنِ عُمَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ مِنْكُم عَلى عَمَلٍ فَكَتَمَنَا مِخْيَطًا فَمَا فَوْقَه كَانَ غُلُولًا يَأْتِىْ بِه يَوْم الْقِيَامَةِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আদী ইবনু ‘উমায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের কাউকে কোন কাজের জন্য (যাকাত ইত্যাদি উসূল করার জন্য) নিয়োগ করলে, সে যদি একটি সূঁচ সমান বা এর চেয়ে ছোট বড় কোন জিনিস গোপন করে তা খিয়ানাত হবে। ক্বিয়ামাতের দিন তা (লাঞ্ছনা সহকারে) আনা হবে। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৪৭৫, ইবনুর আবী শায়বাহ্ ২১৯৬৩, সহীহ আত্ তারগীব ৭৮১, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬০২৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৮০-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষের জন্য খুব পরিষ্কার সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কাউকে কোনো কাজের জন্য নিয়োগ করলে সে যদি একটি সূঁচ বা তার চেয়ে ছোট-বড় কোনো জিনিস গোপন করে, তা খিয়ানত হবে। কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে। এখানে আমানত ও স্বচ্ছতার শিক্ষা অত্যন্ত সরাসরি। ছোট জিনিস বলে অবহেলা করার সুযোগ নেই। দায়িত্বের মাল, যাকাতের সম্পদ, সরকারি বা সামাজিক আমানত—যেটাই হোক, তা গোপন করা নৈতিক ও দ্বীনি অপরাধ। হাদিসটি আমাদের শেখায়, খিয়ানত বড় অঙ্ক দিয়ে শুরু হয় না; অনেক সময় ছোট গোপনীয়তা থেকেই শুরু হয়। তাই মুমিনের উচিত দায়িত্বে স্বচ্ছ থাকা, হিসাব পরিষ্কার রাখা এবং মানুষের হক নিজের বলে না নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বের সম্পদ গোপন করা খিয়ানত।
- সূঁচ পরিমাণ জিনিসও অবহেলার নয়।
- কিয়ামতের জবাবদিহি মনে রেখে আমানত রক্ষা করতে হবে।
- স্বচ্ছ হিসাব রাখা দায়িত্বশীলতার অংশ।
