৬/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮২৮-[৮] - প্রকৃত মিসকীন কে
যাকাত যাদের জন্য হালাল নয় - প্রথম অনুচ্ছেদ
প্রকৃত মিসকীন কে—নবী صلى الله عليه وسلم-এর শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮২৮-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮২৮-[৮]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِىْ يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَلَكِنَّ الْمِسْكِيْنَ الَّذِىْ لَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ وَلَا يُفْطَنُ بِه فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ وَلَا يَقُومُ فَيَسْأَلَ النَّاسَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে লোকের কাছে হাত পাতে। আর তারা তাকে এক বা দুইমুষ্টি অথবা একটি কি দুইটি খেজুর দান করে। বরং মিসকীন ওই ব্যক্তি যে কপর্দকহীন। কিন্তু তার বাহ্যিক বেশভূষার কারণে মানুষেরা বুঝতে পারে না সে মুখাপেক্ষী। তাকে সদকা দেয়া যায়। আর সেও কোন কিছুর জন্য লোকদের কাছে হাত বাড়াতে পারে না। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪৭৯, মুসলিম ১০৩৯, নাসায়ী ২৫৭২, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৪১৪, ইবনু হিব্বান ৩৩৫২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩১৪৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৬০৩, সহীহ আত্ তারগীব ৮২৮, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৩৮৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮২৮-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মিসকীনের পরিচয় নতুনভাবে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, মিসকীন শুধু সে নয়, যে মানুষের কাছে ঘুরে ঘুরে চায় এবং এক-দুই মুষ্টি খাবার বা এক-দুইটি খেজুর পেয়ে ফিরে যায়। বরং প্রকৃত মিসকীন সে, যার প্রয়োজন আছে, কিন্তু তার অবস্থা মানুষ সহজে বুঝতে পারে না। সে এমনভাবে থাকে যে তাকে দেখে লোকেরা অভাবী মনে করে না, ফলে তাকে সদাকাহও দেওয়া হয় না। আবার সে নিজেও মানুষের কাছে গিয়ে চায় না। এই হাদিস ‘প্রকৃত মিসকীন’ এবং ‘গোপন দরিদ্র’ সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দেয়। দান করার সময় শুধু প্রকাশ্য ভিক্ষুক নয়, নীরব অভাবীকেও খোঁজা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব অভাবী মানুষ মানুষের কাছে হাত পাতে না।
- সদাকাহ দেওয়ার সময় গোপন দরিদ্রদের খোঁজ নেওয়া দরকার।
- বাহ্যিক অবস্থাই কারও বাস্তব অভাব বোঝার একমাত্র উপায় নয়।
- মিসকীনের সংজ্ঞা সম্পর্কে নবী صلى الله عليه وسلم স্পষ্ট শিক্ষা দিয়েছেন।
