৬/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৩৬-[১৬] - যাকাতের দুধ থেকে উমরের সতর্কতা
যাকাত যাদের জন্য হালাল নয় - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
যাকাতের মাল থেকে উমর রা.-এর সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮৩৬-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮৩৬-[১৬]
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ: شَرِبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لَبَنًا فَأَعْجَبَه فَسَأَلَ الَّذِي سَقَاهُ: مِنْ أَيْنَ هذَا اللَّبَنُ؟ فَأَخْبَرَه أَنَّه وَرَدَ عَلى مَاءٍ قَدْ سَمَّاهُ فَإِذَا نَعَمٌ مِنْ نَعَمِ الصَّدَقَةِ وَهُمْ يَسْقُونَ فَحَلَبُوا مِنْ أَلْبَانِهَا فَجَعَلْتُه فِىْ سِقَائِي فَهُوَ هذَا: فَأدْخَلَ عُمَرُ يَدَه فَاسْتَقَاءَه. رَوَاهُ مَالِكٌ وَالْبَيْهَقِيُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ
যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
(একদিন) আমীরুল মু’মিনীন উমর ফারূক (রাঃ) দুধ পান করলেন। তা তাঁর খুব ভাল লাগলো। দুধ পরিবেশনকারীকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুধ তুমি কোত্থেকে এনেছ? সে একটি কুয়ার নাম উল্লেখ করে বলল, ওখানে গিয়ে দেখে যাকাতের অনেক উটকে পানি পান করানো হচ্ছে। উটের মালিকগণ দুধ দোহন করলে এর থেকে সামান্য দুধ নিয়ে আমি আমার মশকে ঢেলে নিয়েছি। এ সে দুধ। এ কথা শুনামাত্র উমর (রাঃ) নিজের মুখে হাত ঢুকিয়ে বমি করে দিলেন।(মালিক, বায়হাক্বী) [১]
[১] য‘ঈফ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৯২৪। কারণ হাদীসটি মুনক্বত্বি‘, যেহেতু যায়দ ইবনু আসলাম এবং ‘উমার (রাঃ)-এর মাঝে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৩৬-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আমীরুল মু’মিনীন উমর রা. দুধ পান করলেন এবং তা তাঁর ভালো লাগল। তিনি দুধ দেওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, দুধ কোথা থেকে এসেছে। জানা গেল, সে এমন জায়গা থেকে এসেছে যেখানে যাকাতের উটকে পানি পান করানো হচ্ছিল। উটগুলোর দুধ দোহন করা হলে সে কিছু দুধ নিজের মশকে নিয়েছে, আর সেই দুধই উমর রা. পান করেছেন। এ কথা শুনে উমর রা. নিজের মুখে হাত ঢুকিয়ে বমি করে দিলেন। এখানে ‘যাকাতের মাল থেকে সতর্কতা’ খুব স্পষ্ট। দুধটি ভালো লাগলেও উৎস জানার পর তিনি তা নিজের শরীরে রাখতে চাননি। এতে সন্দেহযুক্ত সম্পদ থেকে দূরে থাকার শক্ত শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারের উৎস জানা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
- যাকাতের মাল ব্যবহারে সাহাবীদের সতর্কতা ছিল।
- ভালো লাগা জিনিসও সন্দেহ হলে ছেড়ে দিতে হয়।
- উমর রা. নিজের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দেখিয়েছেন।
