৬/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৪৫-[৯] - না চেয়ে পাওয়া সম্পদের আদব
যার জন্য কিছু চাওয়া হালাল নয় এবং যার জন্য হালাল - প্রথম অনুচ্ছেদ
না চেয়ে পাওয়া সম্পদ গ্রহণের আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮৪৫-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮৪৫-[৯]
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ: أَعْطِه أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّىْ. فَقَالَ: «خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِه فَمَا جَاءَكَ مِنْ هذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلَا سَائِلٍ فَخُذْهُ. وَمَالَا فَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাকে (যাকাত উসুল করার বিনিময়ে) কিছু দিতে চাইলে আমি নিবেদন করতাম, এটা যে, আমার চেয়ে বেশি অভাবী তাকে দিন। (এ কথার জবাবে) তিনি (ﷺ) বলতেন, (প্রয়োজন থাকলে) এটাকে তোমার মালের সাথে শামিল করে নাও। (আর যদি প্রয়োজনের বেশি হয়) তাহলে তুমি নিজে তা আল্লাহর পথে দান করে দাও। তিনি (আরো বলেন, লোভ লালসা ও হাত না পেতে) যে জিনিস তুমি লাভ করবে, তা গ্রহণ করবে। আর যা এভাবে আসবে না তার পিছে লেগে থেক না। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭১৬৩, মুসলিম ১০৪৫, মুসলিম ২৬০৮, আহমাদ ১০০, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৩৬৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১২০৪০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৬২৯, সহীহ আত্ তারগীব ৮৪৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৪৫-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমার রাঃ-এর মাধ্যমে সম্পদ গ্রহণের সুন্দর একটি নিয়ম এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে কিছু দিতে চাইলে তিনি বলতেন, আমার চেয়ে বেশি অভাবী কাউকে দিন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে বলেন, প্রয়োজন হলে তা নিজের মালের সঙ্গে যোগ করতে, আর প্রয়োজনের বেশি হলে আল্লাহর পথে দান করতে। মূল কথা হলো, কোনো সম্পদ যদি লোভ-লালসা ছাড়া এবং হাত না পেতে আসে, তবে তা গ্রহণ করা যায়। কিন্তু যে সম্পদ এভাবে আসে না, তার পেছনে মন লাগিয়ে থাকা ঠিক নয়। এতে সম্পদের প্রতি লোভ কমে, আত্মসম্মান বজায় থাকে এবং দানের পথও খোলা থাকে। হাদিসটি সম্পদ গ্রহণ, দান ও লোভ থেকে বাঁচার মধ্যে ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লোভ ও চাওয়া ছাড়া সম্পদ এলে তা গ্রহণ করা যায়।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে দান করা ভালো।
- সম্পদের পেছনে মন লাগিয়ে রাখা উচিত নয়।
- নিজের প্রয়োজন ও অন্যের উপকার—দুটিই বিবেচনায় রাখা দরকার।
