৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৫৬-[১] - রমজানে রহমতের দরজা খোলা
সওম (রোজা) - প্রথম অনুচ্ছেদ
الصومওالصيام-এর আভিধানিক অর্থ হলো সাধারণভাবে বিরত থাকা। অর্থাৎ- সহবাস, কথা বলা, খাওয়া ও পান করা থেকে বিরত থাকা। আরো বলা হয়ে থাকে, সূর্য গতিহীন হয়ে পড়লে দিনও গতিহীন হয়ে পড়ে। আর বাতাস বন্ধ হয়ে যায় তখন তার গতিশীলতা থাকে না। আল্লাহ তা‘আলা মারইয়াম সম্পর্কে বলেনঃ ’‘মারইয়াম-এর কথা হলো, আমি মানুষের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকার জন্য মানৎ করেছি রহমানের নিকটে।’’ (সূরা মারইয়াম ১৯ঃ ২৬)صيام’‘সিয়াম’’-এর পরিভাষায় ইমাম নাবাবী ও হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেনঃإمساك مخصوص في زمن مخصوص عن شيء مخصوص بشرائط مخصوصة.অর্থাৎ- নির্দিষ্ট শর্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিরত থাকাকে সিয়াম বলে।ইমাম ত্বীবী বলেনঃ এমন কিছু গুণ যা ইতিবাচক এবং যা ‘আমল করা জায়িয তা ব্যতিরেকে সকল নিষিদ্ধ কাজ হারাম।আমীর ইয়ামানী বলেনঃ নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকা। আর তা হলো খাওয়া, পান করা ও সহবাস।
রমজান মাসে রহমতের দরজা খোলার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৯৫৬-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৯৫৬-[১]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ ؓ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ». وَفِىْ رِوَايَةٍ : فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنُ. وَفِىْ رِوَايَةٍ : فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাহে রমাযান (রমজান) শুরু হলে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়’। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৮৯৯, ৩২৭৭, মুসলিম ১০৭৯, নাসায়ী ২০৯৯, ২০৯৭, ২১০২, আহমাদ ৭৭৮০, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ৭৩৮৪, ৭৭৮১, ৯২০৪, শু‘আবূল ঈমান ৩৩২৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৪৩১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৫৬-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মাহে রমাযান শুরু হলে বিশেষ এক পরিবেশের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, রমজান শুরু হলে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। আরেক বর্ণনায় রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়ার কথা এসেছে। হাদিসটি রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদতের সুযোগ এবং আল্লাহর রহমতের বিশেষ দরজা সামনে আনে। এখানে মূল শিক্ষা হলো রমজানকে সাধারণ মাসের মতো না নেওয়া; বরং সিয়াম, ইবাদত ও নেক কাজের দিকে মন দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজান শুরু হলে রহমত ও জান্নাতের দরজা খোলার বর্ণনা এসেছে।
- জাহান্নামের দরজা বন্ধ এবং শয়তান বন্দী হওয়ার কথা আছে।
- রমজান ইবাদত ও নেক আমলে এগিয়ে যাওয়ার বিশেষ সময়।
- এই মাসকে গুরুত্ব দিয়ে সিয়াম ও ইবাদতে মন দেওয়া উচিত।
