৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৫৮-[৩] - ঈমান ও আশায় রমজানের ইবাদত
সওম (রোজা) - প্রথম অনুচ্ছেদ
الصومওالصيام-এর আভিধানিক অর্থ হলো সাধারণভাবে বিরত থাকা। অর্থাৎ- সহবাস, কথা বলা, খাওয়া ও পান করা থেকে বিরত থাকা। আরো বলা হয়ে থাকে, সূর্য গতিহীন হয়ে পড়লে দিনও গতিহীন হয়ে পড়ে। আর বাতাস বন্ধ হয়ে যায় তখন তার গতিশীলতা থাকে না। আল্লাহ তা‘আলা মারইয়াম সম্পর্কে বলেনঃ ’‘মারইয়াম-এর কথা হলো, আমি মানুষের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকার জন্য মানৎ করেছি রহমানের নিকটে।’’ (সূরা মারইয়াম ১৯ঃ ২৬)صيام’‘সিয়াম’’-এর পরিভাষায় ইমাম নাবাবী ও হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেনঃإمساك مخصوص في زمن مخصوص عن شيء مخصوص بشرائط مخصوصة.অর্থাৎ- নির্দিষ্ট শর্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিরত থাকাকে সিয়াম বলে।ইমাম ত্বীবী বলেনঃ এমন কিছু গুণ যা ইতিবাচক এবং যা ‘আমল করা জায়িয তা ব্যতিরেকে সকল নিষিদ্ধ কাজ হারাম।আমীর ইয়ামানী বলেনঃ নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকা। আর তা হলো খাওয়া, পান করা ও সহবাস।
ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রমজানের আমল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৯৫৮-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৯৫৮-[৩]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهٗ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. وَمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهٗ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় রমজান (রমজান) মাসে সিয়াম পালন করবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় ইবাদতে রাত কাটাবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় লায়লাতুল কদরে ইবাদতে কাটাবে তারও আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৩৮, ১৮০২, ১৯১০, ২০১৪, মুসলিম ৭৬০, আবূ দাঊদ ১৩৭২, নাসায়ী ২২০৫, ইবনু মাজাহ ১৬৪১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৮৮৭৫, আহমাদ ৭১৭০, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ১৮৯৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৫০৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৪৩২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৫৮-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা এসেছে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াব লাভের আশায় রমজান মাসে সিয়াম পালন করবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রমজানে রাতে ইবাদত করবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদরে ঈমান ও সাওয়াবের আশায় ইবাদতে রাত কাটাবে, তারও আগের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। হাদিসটি রমজান, তারাবীহ বা রাতের ইবাদত এবং লায়লাতুল কদরের গুরুত্ব শেখায়। তবে শর্ত হিসেবে ঈমান ও সাওয়াবের আশার কথা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের সিয়াম ঈমান ও সাওয়াবের আশায় পালন করতে হবে।
- রমজানের রাতে ইবাদতের বিশেষ ফজিলত আছে।
- লায়লাতুল কদরে ইবাদত করার বড় মর্যাদা রয়েছে।
- আমলের ভেতরে নিয়ত ও আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা জরুরি।
