৭/০. অধ্যায়ঃ
সওম (রোজা) - প্রথম অনুচ্ছেদ
الصومওالصيام-এর আভিধানিক অর্থ হলো সাধারণভাবে বিরত থাকা। অর্থাৎ- সহবাস, কথা বলা, খাওয়া ও পান করা থেকে বিরত থাকা। আরো বলা হয়ে থাকে, সূর্য গতিহীন হয়ে পড়লে দিনও গতিহীন হয়ে পড়ে। আর বাতাস বন্ধ হয়ে যায় তখন তার গতিশীলতা থাকে না। আল্লাহ তা’আলা মারইয়াম সম্পর্কে বলেনঃ ’’মারইয়াম-এর কথা হলো, আমি মানুষের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকার জন্য মানৎ করেছি রহমানের নিকটে।’’ (সূরা মারইয়াম ১৯ঃ ২৬)صيام’’সিয়াম’’-এর পরিভাষায় ইমাম নাবাবী ও হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেনঃإمساك مخصوص في زمن مخصوص عن شيء مخصوص بشرائط مخصوصة.অর্থাৎ- নির্দিষ্ট শর্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিরত থাকাকে সিয়াম বলে।ইমাম ত্বীবী বলেনঃ এমন কিছু গুণ যা ইতিবাচক এবং যা ’আমল করা জায়িয তা ব্যতিরেকে সকল নিষিদ্ধ কাজ হারাম।আমীর ইয়ামানী বলেনঃ নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকা। আর তা হলো খাওয়া, পান করা ও সহবাস।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৯৫৯-[৪]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৯৫৯-[৪]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ اٰدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلٰى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللّٰهُ تَعَالٰى : إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهٗ لِىْ وَأَنَا أَجْزِىْ بِه، يَدَعُ شَهْوَتَه وَطَعَامَه مِنْ أَجْلِىْ، لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ : فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِه، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّه، وَلَخُلُوفِ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللّٰهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ. وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّه أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَه فَلْيَقُلْ : إِنِّى امْرُؤٌ صَائِمٌ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তানের প্রত্যেকটি নেক ‘আমাল দশ থেকে সত্তর গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলো সাওম। কেননা, সওম আমার জন্যে রাখা হয় এবং আমিই এর প্রতিদান দিব। কারণ সায়িম (রোযাদার) ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির তাড়না ও খাবার-দাবার শুধু আমার জন্য পরিহার করে। সায়িমের জন্য দুইটি খুশী রয়েছে। একটি ইফতার করার সময় আর অপরটি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়। সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশ্কের সুগন্ধির চেয়েও বেশী পবিত্র ও পছন্দনীয় এবং সিয়াম ঢাল স্বরূপ (জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষাকবচ)।তাই তোমাদের যে কেউ যেদিন সায়িম হবে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে আর শোরগোল বা উচ্চবাচ্য না করে। তাকে কেউ যদি গালি দেয় বা কটু কথা বলে অথবা তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, সে যেন বলে দেয়, ‘আমি একজন সায়িম’। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১, নাসায়ী ২২১৭, ইবনু মাজাহ ১৬৩৮, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৮৮৯৪, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৮৯৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৪২৩, আহমাদ ৭৬৯৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৩৩২।
