৭/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৮৭-[৬] - ফজরের আগে সাওমের নিয়ত
সওম পর্বের বিক্ষিপ্ত মাসআলা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ফজরের আগে সাওমের নিয়ত: রোজার জরুরি শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৯৮৭-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৯৮৭-[৬]
عَن حَفْصَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَا صِيَامَ لَه». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَقَفَه عَلٰى حَفْصَةَ مَعْمَرٌ وَالزُّبَيْدِىُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَيُونُسُ الَأَيْلِىُّ كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِىِّ
হাফসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের আগে সাওমের নিয়ত করবে না তার সাওম হবে না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, মা‘মার ও যুবায়দী, ইবনু ‘উআয়নাহ্ এবং ইউনুস আয়লী সহ সকলে এ বর্ণনাটি হাফসাহ্’র কথা বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।)[১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৪৫৪, তিরমিযী ৭৩০, নাসায়ী ২৩৩৩, আহমাদ ২৬৪৫৭, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৯৩৩, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৩৩৭, সহীহ আল জামি‘ ৬৫৩৫। তবে আহমাদের হাদীসটি দুর্বল। কারণ তাতে ইবনু লাহ্ইয়া রয়েছে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৮৭-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাওমের নিয়ত সম্পর্কে স্পষ্ট কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের আগে সওমের নিয়ত করবে না, তার সাওম হবে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; এর জন্য নিয়তও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত মানে অন্তরের সিদ্ধান্ত—আল্লাহর জন্য সাওম রাখার ইচ্ছা। হাদিসের শেষে বর্ণনার ধরন সম্পর্কে ইমাম আবূ দাঊদের মন্তব্যও এসেছে, যেখানে কিছু বর্ণনাকারী একে হাফসাহ রা.-এর কথা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই বিষয়টি বলার সময় হাদিসের ভাষা ও বর্ণনার নোট দুটিই বিবেচনায় রাখা ভালো। সাওমের নিয়ত, ফজরের আগে নিয়ত এবং রোজার শর্ত—এই বিষয়গুলো এই হাদিসের মূল কেন্দ্র।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাওমের জন্য নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ফজরের আগে রোজার নিয়ত করার কথা হাদিসে এসেছে।
- রোজা শুধু না খাওয়া নয়; আল্লাহর জন্য ইচ্ছা থাকা দরকার।
- হাদিসের বর্ণনার নোট জানলে বিষয়টি বুঝতে সহায়তা হয়।
