৭/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৯৬-[১৫] - নবীজির মতো দ্রুত ইফতার
সওম পর্বের বিক্ষিপ্ত মাসআলা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
দ্রুত ইফতার ও সালাত: নবীজির আমলের সাক্ষ্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৯৯৬-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৯৯৬-[১৫]
وَعَنْ أَبِىْ عَطِيَّةَ قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ عَلٰى عَائِشَةَ فَقُلْنَا: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ رَجُلَانِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ﷺ أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الْإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلَاةَ وَالْاٰخَرُ: يُؤَخِّرُ الْإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلَاةَ. قَالَتْ: أَيُّهُمَا يُعَجِّلُ الْإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلَاةَ؟ قُلْنَا عَبْدُ اللّٰهِ بْنُ مَسْعُودٍ. قَالَتْ: هَكَذَا صَنَعَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ وَالْاٰخَرُ أَبُو مُوسٰى. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ 'আত্বিয়্যাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ও মাসরূক উভয়ে (একদিন) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম ও আমরা আরয করলাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দুইজন সাথী আছেন। তাঁদের একজন দ্রুত ইফতার করেন, দ্রুত সালাত আদায় করেন। আর দ্বিতীয়জন বিলম্বে ইফতার করেন ও বিলম্বে সালাত আদায় করেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাড়াতাড়ি করে ইফতার করেন ও সালাত আদায় করেন কে? আমরা বললাম, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই করতেন। আর অপর ব্যক্তি যিনি ইফতার করতে ও সালাত আদায় করতে দেরি করতেন, তিনি ছিলেন আবূ মূসা। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১০৯৯, আবূ দাঊদ ২৩৫৪, তিরমিযী ৭০২, নাসায়ী ২১৬১, আহমাদ ২৪২১২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৯৯৬-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ রা.-এর কাছে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। দুইজন সাহাবির কথা বলা হলো—একজন দ্রুত ইফতার করেন ও দ্রুত সালাত আদায় করেন; অন্যজন ইফতার ও সালাতে দেরি করেন। আয়িশাহ রা. জানতে চাইলেন, কে দ্রুত ইফতার ও সালাত আদায় করেন? বলা হলো, আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ। তখন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই করতেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, দ্রুত ইফতার শুধু নির্দেশ নয়; নবীজির আমলও ছিল। তবে এখানে দ্রুত সালাতের কথাও এসেছে, তাই বিষয়টি ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ার পর বিলম্ব না করার সঙ্গে জড়িত। দ্রুত ইফতার, নবীজির সুন্নাহ এবং সাহাবিদের আমল—এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্রুত ইফতার করা নবীজির আমল হিসেবে এসেছে।
- সময় হলে সালাত ও ইফতারে অযথা বিলম্ব না করা ভালো।
- সাহাবিদের আমল বুঝতে আয়িশাহ রা.-এর সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ।
- রোজার বিষয়ে নবীজির পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
