২/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২১২-[১৫] - ইলম অন্বেষণের মহান মর্যাদা

ইলম (বিদ্যা) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

ইলম অন্বেষণ ও আলিমের মর্যাদা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২১২-[১৫]

وَعَنْ كَثِيْرِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ اَبِيْ الدَّرْدَاءِ فِيْ مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَجَاءَه رَجُلٌ فَقَالَ يَا اَبَا الدَّرْدَاءِ اِنِّيْ جِئْتُكَ مِنْ مَدِيْنَةِ الرَّسُوْلِ ﷺ لِحَدِيْثٍ بَلَغَنِىْ اَنَّكَ تُحَدِّثُه عَنْ رَسُوْل اللهِ ﷺ مَا جِئْتُ لِحَاجَةٍ قَالَ فَانِّىْ سَمِعْتُ رَسُوْل اللهِ ﷺ يَقُوْلُمَنْ سَلَكَ طَرِيْقًا يَّطْلُبُ فِيْهِ عِلْمًا سَلَكَ الله بِه طَرِيْقًا مِّنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَاِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ اَجْنِحَتَهَا رِضًا لِّطَالِبِ الْعِلْمِ وَاِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَه مَنْ فِى السَّموتِ وَمَنْ فِى الاَرْضِ وَالْحِيْتَانُ فِى جَوْفِ الْمَاءِ وَاِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَاِنَّ الْعُلمَاءَ وَرَثَةُ الاَنْبِيَاءِ وَاِنَّ الاَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوْا دِيْنَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَاِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ اَخَذَه اَخَذَ بِحَظٍّ وَّافِرٍ.رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ وَسَمَّاهُ التِّرْمِذِيُّ قَيْسَ بْنَ كَثِيْرٍ

আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি দিমাশ্ক -এর মসজিদে আবুদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় তার নিকট একজন লোক এসে বলল, হে আবুদ্ দারদা! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শহর মাদীনাহ্ থেকে শুধু একটি হাদীস জানার জন্য আপনার কাছে এসেছি। আমি শুনেছি আপনি নাকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আর কোন উদ্দেশে আমি আপনার কাছে আসিনি।তার এ কথা শুনে আবুদ্ দারদা (রাঃ) বললেন, (হাঁ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি (কোরআন ও হাদীসের) ইলম সন্ধানের উদ্দেশ্যে কোন পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে পৌঁছিয়ে দিবেন এবং মালায়িকাহ্ ইলম অনুসন্ধানকারীর সন্তুষ্টি এবং পথে তার আরামের জন্য তাদের পালক বা ডানা বিছিয়ে দেন।অতঃপর ‘আলিমদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করে থাকেন, এমনকি পানির মাছসমূহও (ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে)। ‘আলিমদের মর্যাদা মূর্খ ‘ইবাদাতকারীর চেয়ে অনেক বেশী। যেমন পূর্ণিমা চাঁদের মর্যাদা তারকারাজির উপর এবং ‘আলিমগণ হচ্ছে নবীদের ওয়ারিস। নবীগণ কোন দীনার বা দিরহাম (ধন-সম্পদ) মীরাস (উত্তরাধিকারী) হিসেবে রেখে যান না। তাঁরা মীরাস হিসেবে রেখে যান শুধু ইলম। তাই যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছে। আর তিরমিযী হাদীস বর্ণনাকারীর নাম ক্বায়স বিন কাসীর বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রাবীর নাম কাসীর ইবনু ক্বায়সই এটিই সঠিক (যা মিশকাতের সংকলকও নকল করেছেন)।[১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : আহমাদ ২১২০৮, আবূ দাঊদ ৩৬৪১, তিরমিযী ২৬৮২, ইবনু মাজাহ্ ২২৩, সহীহুত্ তারগীব ৭০, দারিমী ৩৫৪।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২১২-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একজন ব্যক্তি মাদীনাহ থেকে দিমাশ্কে আবুদ দারদা রাঃ-এর কাছে শুধু একটি হাদিস জানার জন্য আসেন। আবুদ দারদা রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم থেকে শোনা ইলম অন্বেষণের ফজিলত বর্ণনা করেন। যে ব্যক্তি ইলমের পথে চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে চালিত করেন। ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ডানা বিছিয়ে দেন। আকাশ-জমিনের অধিবাসী, এমনকি পানির মাছও আলিমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আলিমের মর্যাদা আবিদের চেয়ে বেশি বলা হয়েছে, যেমন পূর্ণিমার চাঁদের আলো তারকার ওপর স্পষ্ট। নবীরা সম্পদ নয়, ইলম রেখে যান; তাই যে ইলম গ্রহণ করে, সে বড় অংশ গ্রহণ করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইলম শেখার জন্য চেষ্টা করা জান্নাতের পথের কারণ হতে পারে।
  • আলিমের মর্যাদা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের চেয়ে আলাদাভাবে বড়।
  • নবীদের উত্তরাধিকার হলো ইলম, ধন-সম্পদ নয়।
  • ইলম নিতে কষ্ট করা সাহাবীদের যুগ থেকেই মূল্যবান কাজ ছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন