২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২১৩-[১৬] - আলিমের মর্যাদা ও কল্যাণ শেখানো
ইলম (বিদ্যা) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মানুষকে কল্যাণ শেখানো আলিমের মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২১৩-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২১৩-[১৬]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْاۤخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَه وَأَهْلَ السَّموتِ وَالْأَرَضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
আবূ উমামাহ্ আল বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। এদের একজন ছিলেন ‘আবিদ (‘ইবাদাতকারী), আর দ্বিতীয়জন ছিলেন ‘আলিম (জ্ঞান অনুসন্ধানকারী)। তিনি বললেন, ‘আবিদের উপর ‘আলিমের মর্যাদা হল যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা, তাঁর মালায়িকাহ্ এবং আকাশমণ্ডলী ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে ও মাছ পর্যন্ত ইলম শিক্ষাকারীর জন্য দোয়া করে। [১]
[১] সহীহ লিগয়রিহী : তিরমিযী ২৬৭৫, সহীহুত্ তারগীব ৮১, দারিমী ১/৯৭-৯৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২১৩-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সামনে দুই ব্যক্তির কথা বলা হয়—একজন আবিদ, অন্যজন আলিম। তিনি বলেন, আবিদের উপর আলিমের মর্যাদা যেমন তাঁর মর্যাদা সাহাবীদের সাধারণ একজনের উপর। এরপর তিনি আরও বলেন, আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতারা, আকাশ ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত মানুষের কল্যাণ শেখানো ব্যক্তির জন্য দোয়া করে। এখানে আলিম বলতে শুধু জ্ঞান জমা করে রাখা ব্যক্তি নয়; বরং যে মানুষকে ভালো কথা শেখায়, কল্যাণের পথে ডাকে। হাদিসটি দেখায়, ইলম তখনই বেশি উপকারী হয় যখন তা মানুষের হেদায়েত, ভালো কাজ এবং সঠিক বোঝার জন্য কাজে লাগে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আলিমের মর্যাদা আবিদের চেয়ে বেশি বলা হয়েছে।
- মানুষকে কল্যাণ শেখানো বড় সাওয়াবের কাজ।
- জ্ঞান শুধু নিজের জন্য নয়, মানুষের উপকারে লাগানো দরকার।
- ভালো শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া সৃষ্টিজগতের দোয়ার কারণ হতে পারে।
