১০/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৫০-[৩৫] - মাজলিস শেষে কাফফারার দোয়া
বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দোয়া - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মাজলিস শেষে ইস্তিগফার ও তাওবার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪৫০-[৩৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪৫০-[৩৫]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ كَانَ إِذَا جَلَسَ مَجْلِسًا أَوْ صَلّٰى تَكَلَّمَ بِكَلِمَاتٍ فَسَأَلْتُه عَنِ الْكَلِمَاتِ فَقَالَ: «إِنْ تُكُلِّمَ بِخَيْرٍ كَانَ طَابَعًا عَلَيْهِنَّ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنْ تُكُلِّمَ بِشَرٍّ كَانَ كَفَّارَةً لَه: سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ». رَوَاهُ النَّسَائِىُّ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন মাজলিসে (বৈঠকে) বসতেন অথবা সালাত আদায় করতেন, তখন কিছু কালাম (বাক্য) পড়তেন। একদিন আমি ঐ সব কালাম সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি (ﷺ) বললেন, (মাজলিসে) যদি কল্যাণকামী আলোচনা হয় তবে তা তার জন্য কিয়ামাত পর্যন্ত ‘মুহর’ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি (মাজলিসে) অকল্যাণকর আলোচনা হয় তবে তা তার জন্য কাফফারার মধ্যে গণ্য হবে।কালামটি হলো, ‘‘সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহাম্দিকা, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলায়কা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবাহ্ করি।)। (নাসায়ী)[১]
[১] সহীহ : নাসাযী ১৩৪৪, আহমাদ ২৪৪৮১, বায়হাক্বী-এর শু‘আবূল ঈমান ৬২০, সহীহাহ্ ৩১৬৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৫১৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৫০-[৩৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বৈঠকে বসলে বা সালাত আদায় করলে কিছু বাক্য পড়তেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদি বৈঠকে ভালো কথা হয়ে থাকে, এই দোয়া কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য মোহর হিসেবে থাকবে। আর যদি অকল্যাণকর কথা হয়ে থাকে, তা কাফফারার মধ্যে গণ্য হবে। দোয়ায় আল্লাহর পবিত্রতা, প্রশংসা, তাওহীদ, ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাওবা একসাথে আছে। মাজলিস শেষে দোয়া আমাদের শেখায়, কথাবার্তার শেষে নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হয়। ভালো আলোচনা হলেও ইস্তিগফার ও তাওবা মুমিনের বিনয় প্রকাশ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৈঠক শেষে আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা করা সুন্নাহ।
- কথাবার্তার শেষে ইস্তিগফার ও তাওবা করা উচিত।
- ভালো বৈঠকেও আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া মুমিনের আদব।
- অকল্যাণকর কথার জন্য ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা আছে।
