১০/৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৬০-[৪] - তাকওয়া, পবিত্রতা ও উপকারী জ্ঞানের দোয়া
আশ্রয় প্রার্থনা করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও উপকারী জ্ঞানের দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪৬০-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪৬০-[৪]
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: «اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اَللّٰهُمَّ اٰتِ نَفْسِىْ تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়াল হারামি ওয়া ‘আযা-বিল কবরি, ‘আল্ল-হুম্মা আ-তি নাফসী তাকওয়া-হা- ওয়াযাক্কিহা- আন্তা খয়রু মিন্ যাক্কা-হা- আন্তা ওয়ালিয়্যুহা- ওয়ামাও লা- হা-, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন্ ‘ইল্মিন লা- ইয়ানফা‘উ ওয়ামিন্ কলবিন লা- ইয়াখশা‘উ ওয়ামিন্ নাফসিন লা- তাশবা‘উ ওয়ামিন্ দা‘ওয়াতিন্ লা- ইউসতাজা-বু লাহা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য ও কবরের ‘আযাব হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার আত্মাকে সংযমী করো ও একে পবিত্র করো। তুমিই শ্রেষ্ঠ পুতঃপবিত্রকারী, তুমি তার অভিভাবক ও রব। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ঐ জ্ঞান লাভ হতে আশ্রয় চাই, যে জ্ঞান (আত্মার) কোন উপকারে আসে না, ঐ অন্তর হতে মুক্তি চাই যে অন্তর তোমার ভয়ে ভীত হয় না। ঐ মন হতে আশ্রয় চাই যে মন তৃপ্তি লাভ করে না এবং ঐ দোয়া হতে, যে দোয়া কবূল করা হয় না।)। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৭২২, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯১২৪, সহীহাহ্ ৪০০৫, সহীহ আল জামি‘ ১২৮৬, সহীহ আত্ তারগীব ১২৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৬০-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি ব্যাপক দোয়া এসেছে। তিনি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য এবং কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাইতেন। এরপর তিনি আল্লাহর কাছে নিজের আত্মার তাকওয়া চান এবং আত্মাকে পবিত্র করার আবেদন করেন। তিনি বলেন, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো পবিত্রকারী, তিনিই আত্মার অভিভাবক ও রব। দোয়ার শেষে এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে যা উপকার দেয় না, এমন অন্তর থেকে যা ভীত হয় না, এমন মন থেকে যা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া থেকে যা কবুল করা হয় না। হাদিসটি আত্মশুদ্ধি, উপকারী জ্ঞান ও বিনয়ী অন্তরের প্রয়োজন শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আত্মার তাকওয়া ও পবিত্রতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।
- উপকারী নয় এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাওয়া শেখানো হয়েছে।
- আল্লাহভীরু অন্তর মুমিনের প্রয়োজন।
- অতৃপ্ত মন ও কবুল না হওয়া দোয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া যায়।
