২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫২-[৫৫] - ওয়ায-নসীহতে ভারসাম্য ও আদব
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ওয়ায-নসীহতে ভারসাম্য ও শ্রোতার আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫২-[৫৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫২-[৫৫]
وَعَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ حَدِّثِِ النَّاسَ كُلَّ جُمُعَةٍ مَرَّةً فَإِنْ أَبَيْتَ فَمَرَّتَيْنِ فَإِنْ أَكْثَرْتَ فَثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَلَا تُمِلَّ النَّاسَ هذَا الْقُرْاۤنَ وَلَا أُلْفِيَنَّكَ تَأْتِي الْقَوْمَ وَهُمْ فِي حَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِهِمْ فَتَقُصُّ عَلَيْهِمْ فَتَقْطَعُ عَلَيْهِمْ حَدِيثَهُمْ فَتُمِلُّهُمْ وَلَكِنْ أَنْصِتْ فَإِذَا أَمَرُوكَ فَحَدِّثْهُمْ وَهُمْ يَشْتَهُونَه وَانْظُرْ السَّجْعَ مِنَ الدُّعَاءِ فَاجْتَنِبْهُ فَإِنِّي عَهِدْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَأَصْحَابَه لَا يَفْعَلُونَ ذلِكَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হে ‘ইক্বরিমাহ। প্রত্যেক জুমুআয় (সপ্তাহে) মাত্র একদিন মানুষকে ওয়ায-নাসীহাত শুনাবে। যদি একবার ওয়ায-নাসীহাত করা যথেষ্ট নয় মনে কর তাহলে সপ্তাহে দুইবার। এর চেয়েও যদি বেশী করতে চাও তাহলে সপ্তাহে তিনবার ওয়ায-নাসীহাত কর। তোমরা এ কোরআনকে মানুষের নিকট বিরক্তিকর করে তুলো না।কোন জাতি যখন তাদের কোন ব্যাপারে আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত থাকে তখন তোমরা সেখানে পৌঁছলে তাদের আলোচনা ভেঙ্গে দিয়ে তাদের কাছে ওয়ায-নাসীহাত করতে যেন আমি কখন তোমাদেরকে না দেখি। এ সময় তোমরা চুপ করে থাকবে। তবে তারা যদি তোমাদেরকে ওয়ায-নাসীহাত করার জন্য বলে তখন তাদের আগ্রহ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে হাদীস শুনাও। কবিতার ছন্দে দোয়া করা পরিত্যাগ করবে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণকে দেখেছি, তারা এরূপ করতেন না। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৩৩৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫২-[৫৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস রা. ‘ইকরিমাহকে বলেন, সপ্তাহে একবার মানুষকে ওয়ায-নসীহত করতে। দরকার মনে হলে দুইবার, আর বেশি হলে তিনবার। তিনি সতর্ক করেন, কুরআনকে মানুষের কাছে বিরক্তিকর করে তুলো না। মানুষ যখন নিজেদের আলোচনায় ব্যস্ত, তখন তাদের কথা কেটে ওয়ায শুরু করতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং চুপ থাকতে বলা হয়েছে; তারা চাইলে তখন তাদের আগ্রহ অনুযায়ী হাদিস শুনাতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, কবিতার ছন্দে দোয়া করা ছেড়ে দিতে, কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ও সাহাবীদের এমন করতে দেখেননি। এই বর্ণনায় দাওয়াহ, ওয়ায, শ্রোতার মানসিকতা এবং দোয়ার আদবের সুন্দর শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়ায-নসীহত এমনভাবে করতে হয় যাতে মানুষ বিরক্ত না হয়।
- শ্রোতা আগ্রহী না হলে তাদের কথা কেটে নসীহত শুরু করা উচিত নয়।
- কুরআনকে মানুষের কাছে কঠিন বা বিরক্তিকর করে তোলা ঠিক নয়।
- দোয়ায় অপ্রয়োজনীয় ছন্দ তৈরি করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
