১১/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬০০-[৯] - আরাফার দিনে শয়তানের অপমান ও আল্লাহর রহমত
আরাফায় অবস্থান প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আরাফার দিনে আল্লাহর রহমত ও শয়তানের লাঞ্ছনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬০০-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬০০-[৯]
وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللّٰهِ بْنِ كَرِيزٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: مَا رُئِىَ الشَّيْطَانُ يَوْمًا هُوَ فِيهِ أَصْغَرُ وَلَا أَدْحَرُ وَلَا أَحْقَرُ وَلَا أَغْيَظُ مِنْهُ فِىْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَمَا ذَاكَ إِلَّا لِمَا يَرٰى مِنْ تَنَزُّلِ الرَّحْمَةِ وَتَجَاوُزِ اللّٰهِ عَنِ الذُّنُوبِ الْعِظَامِ إِلَّا مَا رُئِىَ يَوْمَ بَدْرٍ». فَقِيلَ: مَا رُئِىَ يَوْمَ بَدْرٍ؟ قَالَ: «فَإِنَّه قَدْ رَأَى جِبْرِيلَ يَزَعُ الْمَلَائِكَةَ. رَوَاهُ مَالِكٌ مُرْسَلًا وَفِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ بِلَفْظِ الْمَصَابِيحِ
তলহা ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু কারীয (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শয়তানকে ‘আরাফার দিন ব্যতীত অন্য কোন দিন এত অপমানিত, এত লাঞ্ছিত, এত বেশি ঘৃণিত ও এত বেশি রাগান্বিত হতে দেখা যায় না। কেননা শয়তান এদিন দেখতে থাকে বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমাত নাযিল হচ্ছে, তাদের বড় বড় গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হচ্ছে। তবে এটা বাদরের দিন দেখে গিয়েছিল। কেউ জিজ্ঞেস করলো, বাদরের দিন কি দেখা গিয়েছিল (হে আল্লাহ রাসূল!)। উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, সেদিন সে নিশ্চিতভাবে শয়তান দেখেছিল, জিবরীল (আঃ) মালায়িকাকে (ফেরেশতাগণকে) কাতারবন্দী করতে দেখেছিল। (মালিক মুরসাল হিসেবে; ইমাম বাগাবী শারহুস্ সুন্নাহয় তবে শব্দবিন্যাস মাসাবীহ-এর)[১]
[১] য‘ঈফ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৯৬২, শু‘আবুল ঈমান ৩৭৭৫, শারহুস্ সুন্নাহ ১৯৩০, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৭৩৯। কারণ এর সানাদটি মুরসাল।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬০০-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আরাফার দিনের রহমত এবং শয়তানের অপমানের কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, শয়তানকে আরাফার দিনের চেয়ে বেশি অপমানিত, লাঞ্ছিত, ঘৃণিত ও রাগান্বিত অবস্থায় দেখা যায় না। কারণ সে দেখে, বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাযিল হচ্ছে এবং বড় বড় গুনাহ ক্ষমা করা হচ্ছে। এরপর বাদরের দিনের কথা এসেছে। যখন জিজ্ঞেস করা হলো, বাদরের দিন কী দেখা গিয়েছিল, নবীজি صلى الله عليه وسلم বললেন, সে দিন শয়তান জিবরীল (আঃ)-কে ফেরেশতাদের কাতারবন্দী করতে দেখেছিল। এই হাদিসে আরাফার ফজিলত, আল্লাহর রহমত, গুনাহ ক্ষমা এবং শয়তানের অপমান—সব একসঙ্গে এসেছে। তবে বর্ণনায় মুরসাল হওয়ার কথাও উল্লেখ আছে, তাই ব্যাখ্যায় মূল পাঠের সীমা বজায় রাখা ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরাফার দিনে আল্লাহর রহমত নাযিল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
- বান্দাদের বড় গুনাহ ক্ষমার কথা দেখে শয়তান অপমানিত হয়।
- বাদরের দিনে জিবরীল (আঃ) ফেরেশতাদের কাতারবন্দী করেছিলেন—এ তথ্য বর্ণনায় এসেছে।
- আরাফার দিন আল্লাহর রহমতের আশা ও দোয়ার সঙ্গে যুক্ত।
