২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৯-[৮২] - ইলম, ফারায়িয ও কুরআন শেখানোর নির্দেশ
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ইলম, ফারায়িয ও কুরআন শেখা-শেখানোর গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৯-[৮২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৯-[৮২]
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ وَعَلِّمُوهُ النَّاسَ تَعَلَّمُوا الْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوهَا النَّاسَ تَعَلَّمُوا الْقُرْاۤنَ وَعَلِّمُوهُ النَّاسَ فَإِنِّي امْرُؤٌ مَقْبُوضٌ وَالْعِلْمُ سَيُقْبَضُ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ حَتّى يَخْتَلِفَ اثْنَانِ فِي فَرِيضَةٍ لَا يَجِدَانِ أَحَدًا يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ والدَارَقُطْنِىْ
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমরা ইলম শিক্ষা কর, লোকদের তা শিক্ষা দিতে থাক। তোমরা অবশ্য পালনীয় বিষয়গুলো (বা ফারায়িয) শিখবে, অন্যকেও শিখাবে। এভাবে কোরআন শিখ, লোকদের শিখাও। নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ, আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে, ‘ইলমও শীঘ্রই উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ফিতনাহ্-ফাসাদ ও হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এমন কি দুই ব্যক্তি অবশ্য পালনীয় বিষয়ে মতভেদ করবে, অথচ ঐ দুই ব্যক্তি এমন কাউকে পাবে না, যে এ দুইজনের মীমংসা করে দিতে পারে। [১]
[১] য‘ঈফ : দারিমী ২২১। কারণ এর সানাদে সুলায়মান ইবনু জাবির (রাঃ) আল হিজ্রী নামে একজন মাজহূল বা অপরিচিত রাবী রয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৯-[৮২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইলম শেখা এবং মানুষকে শেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ফারায়িয বা অবশ্য পালনীয় বিষয় শেখার কথাও বলেছেন এবং কুরআন শেখা ও শেখানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, তিনি একজন মানুষ, তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হবে, ইলমও উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং ফিতনা প্রকাশ পাবে। এমন সময় আসবে, যখন দুই ব্যক্তি কোনো ফরজ বিষয়ে মতভেদ করবে, কিন্তু তাদের মাঝে মীমাংসা করার মতো কাউকে পাবে না। এখানে ‘ইলম শেখানো’ শুধু ব্যক্তিগত কাজ নয়; সমাজের প্রয়োজনও। ইলম না থাকলে দ্বীনি বিষয়ে মতভেদ বাড়ে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়। তাই কুরআন, ফারায়িয ও দ্বীনি জ্ঞান সংরক্ষণ করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইলম শেখা ও মানুষকে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- ফারায়িয শেখা সমাজের দ্বীনি প্রয়োজন পূরণ করে।
- ইলম কমে গেলে মতভেদ মেটানো কঠিন হতে পারে।
- কুরআন শেখা ও শেখানো উম্মাহর জন্য বড় কল্যাণ।
