১২/৩. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮০৭-[১] - সুদের সাথে জড়িত সবার সতর্কতা

সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ

সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)

সুদের সাথে জড়িত সবার জন্য কঠোর সতর্কতা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮০৭-[১]

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: لَعَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ الرِّبَا وَمُوَكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ: «هُمْ سَوَاءٌ». رَوَاهُ مُسلم

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লা‘নাত করেছেন : যে ব্যক্তি সুদ খায়, যে সুদ দেয়, যে সুদের কাগজপত্র লিখে, যে দু'জন সুদের সাক্ষী হয় তাদের সকলের ওপর। তিনি (ﷺ) আরো বলেছেন, (গুনাহের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে) তারা সকলেই সমান।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৪৯, সহীহ আত্ তারগীব ১৮৪৭।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮০৭-[১]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সুদের ভয়াবহতা খুব স্পষ্ট ভাষায় এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সুদ খাওয়া ব্যক্তি, সুদ দেওয়া ব্যক্তি, সুদের কাগজপত্র লেখক এবং সুদের সাক্ষীদের ওপর লা‘নাত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, গুনাহের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে তারা সবাই সমান। এখানে শুধু সরাসরি সুদ গ্রহণকারী নয়, বরং সুদের কাজে সাহায্যকারী লোকদেরও সতর্ক করা হয়েছে। তাই সুদী লেনদেন থেকে বাঁচার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির প্রশ্ন নয়; এটি নৈতিক ও ঈমানি সতর্কতার বিষয়। হাদিসটি মুসলিমকে শেখায়, হারাম লেনদেনে অংশ নেওয়া, সহযোগিতা করা বা সাক্ষী হওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সুদ খাওয়া ও সুদ দেওয়া দুটিই কঠোরভাবে নিন্দিত।
  • সুদের কাগজ লেখা বা সাক্ষী হওয়াও গুনাহের কাজে জড়ানো।
  • হারাম লেনদেনে সহযোগিতা থেকেও সতর্ক থাকা দরকার।
  • আয়ের উৎস হালাল রাখা মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন