১২/৩. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮০৯-[৩] - একই পণ্যে বেশি নেওয়া রিবা

সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ

সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)

একই জাতের পণ্যে বেশি নেওয়া রিবা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮০৯-[৩]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مِثْلًا بِمِثْلٍ يَدًا بِيَدٍ فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى الْآخِذُ وَالْمُعْطِي فِيهِ سَوَاءٌ». رَوَاهُ مُسلم

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : স্বর্ণ স্বর্ণের বিনিময়ে, রূপা রূপার বিনিময়ে, গম গমের বিনিময়ে, যব যবের বিনিময়ে, খেজুর খেজুরের বিনিময়ে, লবণ লবণের বিনিময়ে লেনদেন করা হলে, সেক্ষেত্রে সমপরিমাণে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে নগদে আদান প্রদান করতে হবে। আর যে ব্যক্তি একই জাতীয় পণ্যের বিনিময়ে বেশি দেয় ও বেশি দাবি করে বেশি গ্রহণ করবে, তাহলে সে সুদ লেনদেনকারী বলে গণ্য হবে। অতএব এ ব্যাপারে গ্রহীতা ও দাতা উভয়েই সমান অপরাধী।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৮৪, আহমাদ ১১৯২৮।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮০৯-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে স্বর্ণ, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণের বিনিময়ের নিয়ম আবার স্পষ্ট করা হয়েছে। একই জাতের পণ্য একই জাতের সাথে বদল করলে তা সমপরিমাণে, নগদে এবং উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে হতে হবে। যদি কেউ একই জাতের পণ্যের বিনিময়ে বেশি দেয় বা বেশি চায় এবং বেশি গ্রহণ করে, তাহলে সে রিবা বা সুদী লেনদেনে পড়ে যায়। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, গ্রহণকারী ও দাতা উভয়েই এ ব্যাপারে সমান। তাই ব্যবসায় লাভের নামে একই পণ্যের বিনিময়ে অন্যায় বাড়তি নেওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে। মাপ, ওজন ও নগদ আদান-প্রদান এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • একই জাতের পণ্যে কম-বেশি বিনিময় রিবার কারণ হতে পারে।
  • দাতা ও গ্রহীতা উভয়েরই দায় আছে।
  • মাপ ও ওজনের সমতা লেনদেনে ন্যায় বজায় রাখে।
  • নগদ ও উপস্থিত লেনদেনের শর্ত গুরুত্বের সাথে মানতে হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন