১২/৩. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১০-[৪] - স্বর্ণ-রূপার সমান ওজনের লেনদেন

সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ

সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)

স্বর্ণ-রূপার লেনদেনে সমান ওজনের নিয়ম

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮১০-[৪]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ وَلَا تُشِفُّوا بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ وَلَا تَبِيعُوا الْوَرِقَ بِالْوَرِقِ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ وَلَا تُشِفُّوا بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ وَلَا تبِيعُوا مِنْهَا غَائِبا بناجز» وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ وَلَا الْوَرق بالورق إِلَّا وزنا بِوَزْن»

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : স্বর্ণকে স্বর্ণের বিনিময়ে সমতা ছাড়া লেনদেন করবে না (যাতে তা ওজনে সমপরিমাণ না হয়), তাই উভয়ের মধ্যে কম-বেশি করবে না। ঠিক অনুরূপভাবে রূপাকে রূপার বিনিময়ে সমতা ছাড়া লেনদেন করো না (যদি তা সমপরিমাণ না হয়), তাই উভয়ের মধ্যে কম-বেশি করবে না। আর এ পণ্যদ্বয়ে বাকির বিনিময় নগদের সাথে করো না। আর এক বর্ণনায় আছে, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ও রূপার বিনিময়ে রূপা— উভয় পণ্যদ্বয়ে সমান ওজন ব্যতীত বিক্রি করো না।

[১] সহীহ : বুখারী ২১৭৭, মুসলিম ১৫৮৪, নাসায়ী ৪৫৭০, তিরমিযী ১২৪১, আহমাদ ১১০০৬, সহীহ আল জামি‘ ৭২১১।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১০-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে স্বর্ণ ও রূপার বিনিময় নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করলে তা সমান ওজনে হতে হবে; কোনো এক দিক বেশি বা কম করা যাবে না। একইভাবে রূপার বিনিময়ে রূপাও সমান ওজনে হতে হবে। হাদিসে আরও নিষেধ করা হয়েছে—এই পণ্যদ্বয়ে বাকির বিনিময় নগদের সাথে করা যাবে না। আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছে, স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ ও রূপার বদলে রূপা সমান ওজন ব্যতীত বিক্রি করা যাবে না। এই শিক্ষা রিবা থেকে বাঁচার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে অস্পষ্টতা, কম-বেশি এবং বাকি-নগদের মিশ্রতা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ হলে সমান ওজন হওয়া দরকার।
  • রূপার বদলে রূপাতেও কম-বেশি করা যাবে না।
  • বাকি ও নগদ মিশিয়ে এই লেনদেন করা নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।
  • মূল্যবান জিনিসের লেনদেনে মাপ-ওজন স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন