১২/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১১-[৫] - খাদ্য বিনিময়ে সমপরিমাণের শিক্ষা
সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)
খাদ্য বিনিময়ে সমপরিমাণের নিয়ম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮১১-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮১১-[৫]
وَعَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كُنْتُ أسمع رَسُول صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الطَّعَامُ بِالطَّعَامِ مِثْلاً بمثْلٍ». رَوَاهُ مُسلم
মা‘মার ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, খাদ্য-সামগ্রীর বিনিময় সমপরিমাণ হতে হবে।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৯২, সহীহ আল জামি‘ ৩৯৫২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১১-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে খাদ্য-সামগ্রীর বিনিময় নিয়ে একটি মূলনীতি এসেছে—খাদ্যের বিনিময় খাদ্য হলে তা সমপরিমাণ হতে হবে। বাক্যটি ছোট হলেও লেনদেনের ন্যায়নীতি খুব পরিষ্কার করে। খাবার মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিস; তাই এর বিনিময়ে কম-বেশি, অস্পষ্টতা বা অন্যায় সুবিধা নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার। এই হাদিসকে একই জাতের খাদ্য বদলের ক্ষেত্রে সমতা, মাপ ও সততার শিক্ষা হিসেবে বোঝা যায়। মাপ নির্দিষ্ট না হলে বা এক পক্ষ বেশি সুবিধা নিলে ঝগড়া ও অন্যায়ের সুযোগ তৈরি হয়। তাই খাদ্য লেনদেনে স্পষ্ট পরিমাণ ও সৎ আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাদ্য-সামগ্রীর বিনিময়ে সমপরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- মাপ পরিষ্কার থাকলে লেনদেনে ন্যায় বজায় থাকে।
- প্রয়োজনীয় জিনিসের লেনদেনে সতর্কতা বেশি দরকার।
- অস্পষ্ট বিনিময় ঝগড়ার কারণ হতে পারে।
