১২/৩. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১২-[৬] - নগদ না হলে রিবার আশঙ্কা

সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ

সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)

একই জাতের পণ্যে নগদ লেনদেনের শর্ত

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮১২-[৬]

وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالْوَرِقُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بالبُرَّ إِلَّا هَاء وهاء وَالشعِير بِالشَّعِيرِ رَبًّا هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وهاء»

উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : স্বর্ণের বিনিময় স্বর্ণের সাথে যদি লেনদেন নগদে না হয়, সেক্ষেত্রে তা সুদী লেনদেন হবে। আর রূপার বিনিময় রূপার সাথে যদি লেনদেন নগদে না হয়, তবে সেটা সুদী লেনদেন হবে। আর গমের বিনিময় গমের সাথে যদি লেনদেন নগদে না হয়, তবে সেক্ষেত্রে সুদী লেনদেন হবে। আর যবের বিনিময় যবের সাথে যদি লেনদেন নগদে না হয়, হবে তা সুদী লেনদেন হবে। আর খেজুরের বিনিময় খেজুরের সাথে যদি লেনদেন নগদে না হয়, তবে তা সুদী লেনদেন হবে।

[১] সহীহ : বুখারী ২১৩৪, মুসলিম ১৫৮৬, আবূ দাঊদ ৩৪৪৮, নাসায়ী ৪৫৫৮, তিরমিযী ১২৪৩, ইবনু মাজাহ ২২৫৩, আহমাদ ১৬২, ইরওয়া ১৩৪৭।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১২-[৬]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একই জাতের পণ্য বিনিময়ে নগদ আদান-প্রদানের গুরুত্ব বলা হয়েছে। স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব এবং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর—এসব ক্ষেত্রে লেনদেন যদি নগদে না হয়, তাহলে তা রিবা বা সুদী লেনদেন হয়ে যায়। এখানে ‘হাতে হাতে’ আদান-প্রদানের কথা বোঝানো হয়েছে। এই শিক্ষা ব্যবসায় বিলম্ব, বাকি বা অস্পষ্ট চুক্তি থেকে সতর্ক করে। একই জাতের জিনিস বদল করতে হলে শুধু পরিমাণ নয়, আদান-প্রদানের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। রিবা থেকে বাঁচতে লেনদেনের ধরন পরিষ্কার রাখা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • একই জাতের পণ্য বদলে নগদ আদান-প্রদান জরুরি।
  • বাকি বা বিলম্বিত বিনিময় রিবার কারণ হতে পারে।
  • লেনদেনের সময় ও পদ্ধতি পরিষ্কার হওয়া দরকার।
  • রিবা থেকে বাঁচতে হাতে হাতে বিনিময় মানতে হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন