১২/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৩-[৭] - ভালো-খারাপ খেজুর বিনিময়ের নিয়ম
সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)
ভালো-খারাপ খেজুর বিনিময়ে রিবা থেকে বাঁচা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮১৩-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮১৩-[৭]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم اسْتَعْمَلَ رَجُلًا عَلَى خَيْبَرَ فَجَاءَهُ بِتَمْرٍ جَنِيبٍ فَقَالَ: «أَكُلُّ تَمْرِ خَيْبَرَ هَكَذَا؟» قَالَ: لَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَأْخُذُ الصَّاعَ مِنْ هَذَا بِالصَّاعَيْنِ وَالصَّاعَيْنِ بِالثَّلَاثِ فَقَالَ: «لَا تَفْعَلْ بِعِ الْجَمْعَ بِالدَّرَاهِمِ ثُمَّ ابْتَعْ بِالدَّرَاهِمِ جَنِيبًا». وَقَالَ: «فِي الْمِيزَانِ مِثْلَ ذَلِكَ»
আবূ সা'ঈদ ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার এলাকায় এক ব্যক্তিকে চাকরি দিলেন। ওই ব্যক্তি সেখান থেকে বেশ ভালো খেজুর নিয়ে এলেন। তিনি (ﷺ) তা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এমন ভালো হয়? ওই ব্যক্তি বললো, জি না, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এক সা— এরূপ খেজুর দু' সা' (খারাপ) খেজুরের বিনিময়ে গ্রহণ করে থাকি। অথবা ভালো দুই সা খারাপ তিন সা'র বিনিময়ে গ্রহণ করে থাকি। এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) বললেন, এভাবে বিনিময় করো না। বরং খারাপ খেজুর (দু' বা তিন সা') মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করে ওই মুদ্রা দিয়ে ভালো খেজুর কিনে নাও। তিনি (ﷺ) এ কথাও বললেন, ওজন করা বস্তুরও একই হুকুম।
[১] সহীহ : বুখারী ২২০১, মুসলিম ১৫৯৩, নাসায়ী ৪৫৫৩, দারিমী ২৬১৯, ইরওয়া ১৩৪০।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৩-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খায়বারের ভালো খেজুর নিয়ে একটি শিক্ষা এসেছে। একজন কর্মচারী ভালো মানের খেজুর নিয়ে এলে নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করলেন, খায়বারের সব খেজুর কি এমন? সে জানাল, তারা এক সা ভালো খেজুর দুই সা খারাপ খেজুরের বিনিময়ে, অথবা দুই সা ভালো খেজুর তিন সা খারাপ খেজুরের বিনিময়ে নেয়। নবী صلى الله عليه وسلم এভাবে করতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেন, খারাপ খেজুর মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করে সেই মুদ্রা দিয়ে ভালো খেজুর কিনতে। এতে বোঝা যায়, একই জাতের পণ্যে ভালো-খারাপের অজুহাতে কম-বেশি বিনিময় রিবার পথে নিয়ে যেতে পারে। পৃথক বিক্রি ও পৃথক ক্রয় করলে লেনদেন পরিষ্কার হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই জাতের ভালো-খারাপ পণ্য কম-বেশি বদল করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- খারাপ পণ্য আগে বিক্রি করে পরে ভালো পণ্য কেনা নিরাপদ পদ্ধতি।
- লেনদেন পরিষ্কার হলে রিবার আশঙ্কা কমে।
- মাপ বা ওজনের পণ্যে একই ধরনের সতর্কতা দরকার।
