১২/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৪-[৮] - খেজুর বিনিময়ে প্রকৃত সুদের সতর্কতা
সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)
খেজুর বিনিময়ে প্রকৃত সুদের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮১৪-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮১৪-[৮]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: جَاءَ بِلَالٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَمْرٍ بَرْنِيٍّ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ أَيْنَ هَذَا؟» قَالَ: كَانَ عِنْدَنَا تَمْرٌ رَدِيءٌ فَبِعْتُ مِنْهُ صَاعَيْنِ بِصَاعٍ فَقَالَ: «أَوَّهْ عَيْنُ الرِّبَا عَيْنُ الرِّبَا لَا تَفْعَلْ وَلَكِنْ إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَشْتَرِيَ فَبِعِ التَّمرَ ببَيْعٍ آخر ثمَّ اشْتَرِ بِهِ»
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন বিলাল (রাঃ) নবী (ﷺ) এর কাছে 'বার্নী' জাতীয় খুরমা নিয়ে আসলেন। নবী (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এই জাতীয় খুরমা কোথায় পেলে? বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার কাছে কিছু খারাপ খুরমা ছিল। আমি এগুলোর দু' সা— এ জাতীয় এক সা খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করেছি। এটা শুনে তিনি (ﷺ) বললেন, আহ! এটাই তো ‘সুদী লেনদেন। এটাইতো প্রকৃত সুদ। এরূপ করবে না, বরং তুমি এ খারাপ খুরমা পরিমাণে বেশি দিয়ে ভালো খুরমা পরিমাণে কম কিনতে চাইলে পৃথকভাবে মুদ্রার বিনিময়ে খারাপ খুরমা বিক্রি করে তার মূল্য দিয়ে ভালো খুরমা ক্রয় করবে।
[১] সহীহ : বুখারী ২২১২, মুসলিম ১৫৯৪, নাসায়ী ৪৫৫৭, আহমাদ ১১৫৯৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৪-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিলাল রা. নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ভালো বার্নী জাতীয় খুরমা নিয়ে আসেন। নবী صلى الله عليه وسلم জানতে চান, তিনি তা কোথায় পেলেন। বিলাল রা. বলেন, তার কাছে খারাপ খুরমা ছিল; তিনি দুই সা খারাপ খুরমার বিনিময়ে এক সা ভালো খুরমা নিয়েছেন। নবী صلى الله عليه وسلم এ কথা শুনে বলেন, এটাই প্রকৃত সুদ, এবং এভাবে করতে নিষেধ করেন। এরপর তিনি পথ দেখান—খারাপ খুরমা আলাদা বিক্রি করে, সেই মূল্য দিয়ে ভালো খুরমা কিনতে হবে। এই হাদিসে একই জাতের পণ্যে ভালো-খারাপের কারণে কম-বেশি সরাসরি বিনিময়ের বিপদ পরিষ্কার হয়েছে। ইসলাম লেনদেনে পরিষ্কার পথ শেখায়, যাতে রিবা থেকে বাঁচা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই জাতের পণ্যে কম-বেশি বদল রিবার কারণ হতে পারে।
- ভালো পণ্য পেতে খারাপ পণ্য আগে আলাদা বিক্রি করা উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم ভুল লেনদেন দেখলে সঠিক পদ্ধতি শিখিয়েছেন।
- ব্যবসায় হালাল পথ বেছে নেওয়া জরুরি।
