১২/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৫-[৯] - বায়আতের আগে ব্যক্তির অবস্থা জানা
সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)
বায়আতের আগে ব্যক্তির অবস্থা যাচাইয়ের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮১৫-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮১৫-[৯]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: جَاءَ عَبْدٌ فَبَايَعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَلَمْ يَشْعُرْ أَنَّهُ عَبْدٌ فَجَاءَ سَيِّدُهُ يُرِيدُهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «بِعَيْنِه» فَاشْتَرَاهُ بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدَيْنِ وَلَمْ يُبَايِعْ أَحَدًا بَعْدَهُ حَتَّى يَسْأَلَهُ أَعَبْدٌ هُوَ أَوْ حُرٌّ. رَوَاهُ مُسلم
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার একজন ক্রীতদাস (কোনো এলাকা হতে মাদীনায় এসে) নবী (ﷺ) এর হাতে হিজরত করার বায়'আত করলো (অর্থাৎ- সে সর্বদা রাসূল (ﷺ) এর সান্নিধ্যে থাকার উদ্দেশে অঙ্গীকার করলো)। সে যে ক্রীতদাস তা নবী (ﷺ) জানতেন না। অতঃপর (কিছু দিন পর) ক্রীতদাসের মুনীব তাকে (খুঁজতে এসে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে) নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেন, এ ক্রীতদাসকে আমার কাছে বিক্রি করে দাও। তখন তিনি (ﷺ) দু'টি হাবশী (কৃষ্ণাঙ্গ) ক্রীতদাসের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করে নিলেন। তারপর তিনি (ﷺ) কোনদিন কোনো ব্যক্তিকে সে ক্রীতদাস না মুক্ত ব্যক্তি, তা জিজ্ঞেস না করে কোনো বায়'আত গ্রহণ করতেন না।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৬০২, নাসায়ী ৪১৮৪, তিরমিযী ১২৩৯, ইবনু মাজাহ ২৮৬৯, আহমাদ ১৪৭৭২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৫-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ক্রীতদাসের ঘটনা এসেছে। সে নবী صلى الله عليه وسلم-এর হাতে হিজরতের বায়আত করেছিল, কিন্তু তখন নবী صلى الله عليه وسلم জানতেন না যে সে ক্রীতদাস। পরে তার মালিক এসে তাকে নিয়ে যেতে চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم তাকে নিজের কাছে বিক্রি করে দিতে বলেন এবং দুইজন হাবশী ক্রীতদাসের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم আর কাউকে বায়আত নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস না করে নিতেন না—সে ক্রীতদাস না মুক্ত ব্যক্তি। হাদিসটির শিক্ষা হলো, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার বা চুক্তির আগে ব্যক্তির অবস্থা জানা দরকার। তথ্য পরিষ্কার না হলে পরের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই অঙ্গীকার ও লেনদেনে যাচাই, স্পষ্টতা ও দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের আগে ব্যক্তির অবস্থা জানা দরকার।
- অস্পষ্ট তথ্য পরের সময় সমস্যার কারণ হতে পারে।
- ভুল জানার পর নবী صلى الله عليه وسلم বিষয়টি সংশোধনের পথ নিয়েছেন।
- চুক্তি ও বায়আতে সতর্কতা ও যাচাই জরুরি।
