১২/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৬-[১০] - অজানা পরিমাণে খেজুর বিক্রি নিষেধ
সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)
অজানা পরিমাণে খেজুর লেনদেনের নিষেধ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮১৬-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮১৬-[১০]
وَعَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الصُّبْرَةِ مِنَ التَّمْرِ لَا يُعْلَمُ مَكِيلَتُهَا بِالْكَيْلِ الْمُسَمَّى مِنَ التَّمْرِ. رَوَاهُ مُسلم
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোনো খুরমার স্তূপের পরিমাণ না জেনে পরিমাপকৃত খুরমার বিনিময়ে লেনদেন করতে নিষেধ করেছেন।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৩০, নাসায়ী ৪৫৪৭, সহীহ আল জামি‘ ৬৯৩৪।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮১৬-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমন লেনদেন নিষেধ করেছেন যেখানে খুরমার স্তূপের পরিমাণ জানা নেই, অথচ তা নির্দিষ্ট মাপের খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এখানে মূল সমস্যা হলো অজানা পরিমাণ। এক পক্ষ জানে না স্তূপে আসলে কত আছে, আবার অন্য পাশে মাপ নির্দিষ্ট। এতে কম-বেশি, ভুল বোঝাবুঝি এবং অন্যায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ইসলাম ক্রয়-বিক্রয়ে মাপ ও পরিমাণ পরিষ্কার করতে শেখায়। বিশেষ করে একই ধরনের খাদ্যপণ্যের বিনিময়ে পরিমাণ জানা জরুরি। এই হাদিস ব্যবসায় অস্পষ্টতা কমিয়ে স্পষ্ট ও ন্যায্য লেনদেনের পথে ডাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অজানা পরিমাণের পণ্য নির্দিষ্ট মাপের পণ্যের সাথে বদল করা ঝুঁকিপূর্ণ।
- লেনদেনে মাপ ও পরিমাণ পরিষ্কার হওয়া দরকার।
- অস্পষ্টতা থাকলে অন্যায় বা ঝগড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
- খাদ্যপণ্যের বিনিময়ে সতর্কতা রাখা জরুরি।
