১২/৩. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮০৮-[২] - ছয় পণ্যের বিনিময়ে সুদের নিয়ম

সুদ - প্রথম অনুচ্ছেদ

সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ’‘আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নবী (ﷺ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো- সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই।তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লেখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা মাকীল অর্থাৎ পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা বস্তু। অতএব পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় এমন সকল বস্তুতেই সুদ হবে। ‘আলিমগণ এ বিষয়েও একমত যে, সুদ হয় এমন বস্তু কম বেশী করে এবং বাকীতেও বেচা-কেনা বৈধ যদি উভয় বস্তুর সুদের কারণ এক না হয় যেমন- সোনা ও গম। আর যদি একজাতীয় বস্তু হয় তাতে কমবেশী করা বৈধ নয় এবং বাকীতে বেচা-কেনাও বৈধ নয়। আর যদি একজাতীয় না হয়ে ভিন্ন জাতীয় হয় কিন্তু সুদ হওয়ার কারণ এক হয় তাহলে কমবেশী করা বৈধ কিন্তু বাকীতে বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন সোনা ও রূপা এবং গম ও খেজুর। (শারহে মুসলিম ১১/১২ খন্ড, হাঃ ১৫৮৪)

ছয় পণ্যের বিনিময়ে রিবা থেকে বাঁচার নিয়ম

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮০৮-[২]

وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْملح بالملح مثلا بِمثل سَوَاء بسَواءٍ يَدًا بِيَدٍ فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الْأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ». رَوَاهُ مُسلم

'উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবণের বিনিময়ে লবণ আদান প্রদান করা হলে সমপরিমাণে নগদে হাতে হাতে আদান প্রদান করতে হবে। তবে যদি অন্য কোনো জাতীয় কিছু দিয়ে লেনদেন হয় তাহলে সেক্ষেত্রে পরিমাণের বিনিময় নির্ধারণ করে সম্মতির ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারো, যদি উভয়ে উপস্থিত থেকে নগদে আদান প্রদান করা হয়।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৮৭, আবূ দাঊদ ৩৩৪৯, নাসায়ী ৪৫৬১, আহমাদ ২২৬৮৩, আহমাদ ২৬২১, সহীহ আল জামি‘ ৩৪৪৫, ইরওয়া ১৩৪৬।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮০৮-[২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ছয় ধরনের পণ্যের বিনিময় নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে—স্বর্ণ, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। একই জাতের পণ্য একই জাতের পণ্যের সাথে বদল করলে তা সমপরিমাণে এবং হাতে হাতে নগদে হতে হবে। যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বা গমের বিনিময়ে গম হলে কম-বেশি করা যাবে না। তবে যদি জাত ভিন্ন হয়, তখন উভয়ের সম্মতিতে পরিমাণ নির্ধারণ করে লেনদেন করা যাবে, শর্ত হলো আদান-প্রদান উপস্থিত অবস্থায় নগদে হবে। এই হাদিস রিবা বা সুদী লেনদেন থেকে বাঁচার একটি মূলনীতি শেখায়। ব্যবসায় মাপ, ওজন, নগদ আদান-প্রদান এবং স্পষ্ট সম্মতি খুব জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • একই জাতের পণ্য বদল করলে সমপরিমাণ হওয়া জরুরি।
  • হাতে হাতে নগদ আদান-প্রদান রিবা থেকে বাঁচার একটি শর্ত।
  • ভিন্ন জাতের পণ্যে পরিমাণে ভিন্নতা হতে পারে, তবে নগদ লেনদেন দরকার।
  • ব্যবসায় মাপ ও ওজন পরিষ্কার রাখা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন