১২/৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৮৫-[৩] - নবীজির বর্ম বন্ধক থাকার শিক্ষা
অগ্রিম বিক্রয় করা এবং বন্ধক রাখা - প্রথম অনুচ্ছেদ
নবীজির বর্ম বন্ধক: সরল জীবন ও দায়বদ্ধতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮৮৫-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮৮৫-[৩]
وَعَنْهَا قَالَتْ: تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدِرْعُهُ مَرْهُونَةٌ عِنْدَ يَهُودِيٍّ بِثَلَاثِينَ صَاعا من شعير. رَوَاهُ البُخَارِيّ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তেকালের সময় তাঁর লৌহবর্ম ৩০ সা— (প্রায় তিন মণ) যবের বিনিময়ে এক ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক রাখা ছিল।
[১] সহীহ : বুখারী ২৯১৬, নাসায়ী ৪৬৫১, ইবনু মাজাহ ২৪৩৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩২৯৫। তবে নাসায়ী ও ইবনু মাজার বর্ণনাটি ইবনু ‘আব্বাস হতে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৮৫-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ইন্তিকালের সময় তাঁর লৌহবর্ম এক ইয়াহুদীর কাছে ত্রিশ সা যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল। হাদিসটি আমাদের সামনে নবীজির সরল জীবন ও বাস্তব লেনদেনের একটি চিত্র তুলে ধরে। তিনি মানুষের মতো প্রয়োজনীয় লেনদেন করেছেন, বাকিতে খাদ্য নিয়েছেন এবং পাওনাদারের নিরাপত্তার জন্য বর্ম বন্ধক রেখেছেন। এখানে অহংকার নেই, অন্যের হক নষ্ট করার সুযোগ নেই। ইসলামে ঋণ বা বাকির লেনদেন হলে তা দায়িত্বের বিষয়। নবীজির এই আমল আমাদের শেখায়, অভাব বা প্রয়োজনকে লজ্জার বিষয় না বানিয়ে নিয়ম মেনে, সততা রেখে এবং পাওনাদারের অধিকার রক্ষা করে লেনদেন করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণ বা বাকির লেনদেনে পাওনাদারের অধিকার রক্ষা করতে হয়।
- সরল জীবন যাপন নবীজির সুন্দর আদর্শের অংশ।
- প্রয়োজনে বন্ধক রাখা বৈধ লেনদেনের বাস্তব পদ্ধতি হতে পারে।
- লেনদেনে মর্যাদা নয়, সততা ও দায়িত্বই বড় বিষয়।
