১২/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৯২-[১] - খাদ্য গুদামজাত করার ভয়াবহতা
খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
(بَابُ الْاِحْتِكَارِ) এটা হলো জনগণকে ধোঁকা দেয়ার ইচ্ছায় অথবা অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণের আশায় জনগণের প্রয়োজনের সময় খাদ্য গুদামজাত করা।
খাদ্য গুদামজাত করা কেন ভয়াবহ কাজ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮৯২-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮৯২-[১]
عَن معمر قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ «كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ» فِي بَابِ الْفَيْءِ إِنْ شَاءَ الله تَعَالَى
মা'মার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে লোক খাদ্য-সামগ্রী গুদামজাত করে, সে অপরাধী; সে গুনাহগার সাব্যস্ত হবে। উমর (রাঃ)-এর হাদীস “ বানী নাযীর-এর যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ” অধ্যায়ে অতি শীঘ্রই উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ তা'আলা।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৬০৫, সহীহ আত্ তারগীব ১৭৮১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৯২-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাদ্যসামগ্রী গুদামজাত করার কঠোর নিন্দা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে লোক খাদ্যসামগ্রী গুদামজাত করে, সে অপরাধী বা গুনাহগার। হাদিসের মূল কথা হলো, মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য আটকে রেখে বাজারে সংকট তৈরি করা অন্যায়। খাবার মানুষের মৌলিক প্রয়োজন; তাই মুনাফার আশায় মানুষের কষ্ট বাড়ানো একজন মুমিনের কাজ হতে পারে না। এখানে সাধারণভাবে নিজের প্রয়োজনের জন্য খাবার রেখে দেওয়ার কথা নয়; বরং ক্ষতিকর গুদামজাতকরণের কথা এসেছে। ইসলামে ব্যবসা করা বৈধ, কিন্তু মানুষের প্রয়োজনকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করে লাভ নেওয়া নিন্দনীয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য আটকে রাখা গুনাহের কাজ।
- ব্যবসায় লাভ চাইলে মানুষের কষ্ট বাড়ানো যাবে না।
- খাদ্য বাজারে ন্যায় ও সহজলভ্যতা রক্ষা করা জরুরি।
- মুমিন ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনকে সম্মান করে।
