১২/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৯৮-[৭] - মজুদদারির পরে দান কি যথেষ্ট
খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মজুদদারির পরে দান করলেও কেন সতর্কতা জরুরি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮৯৮-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮৯৮-[৭]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ احْتَكَرَ طَعَامًا أَرْبَعِينَ يَوْمًا ثمَّ تَصَدَّقَ بِهِ لَمْ يَكُنْ لَهُ كَفَّارَةً» . رَوَاهُ رزين
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যজাত দ্রব্য গুদামজাত করে রাখবে, সে তার এ মাল দান-খয়রাত করে দিলেও তার জন্য যথেষ্ট (কাফ্ফারাহ্) হবে না।
[১] মাওযূ‘ বা বানোয়াট : য‘ঈফাহ্ ৮৫৯। কারণ এর সনদে মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান একজন মিথ্যুক রাবী।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৯৮-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যজাত দ্রব্য গুদামজাত করে রাখবে, পরে সেই মাল দান করলেও তা তার জন্য যথেষ্ট কাফফারা হবে না। হাদিসটি মজুদদারির ক্ষতি কত গুরুতর তা বোঝায়। কারণ সমস্যা শুধু মাল নিজের কাছে রাখা নয়; সেই সময় মানুষের প্রয়োজন, কষ্ট এবং বাজারের চাপ তৈরি হওয়া। পরে দান করলে দান ভালো কাজ হতে পারে, কিন্তু আগের ক্ষতি ও অন্যায়ের দায় সহজে মুছে যায় না—এই সতর্কতা এখানে বোঝা যায়। তাই মুমিনের জন্য ভালো পথ হলো, শুরুতেই মানুষের খাদ্য আটকে না রাখা এবং লাভের লোভে সমাজে কষ্ট না বাড়ানো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায় করে পরে দান করলেই সব দায় শেষ হয়—এমন ভাবা ঠিক নয়।
- খাদ্য মজুদ মানুষের বাস্তব ক্ষতি করতে পারে।
- গুনাহ থেকে শুরুতেই বেঁচে থাকা পরের ক্ষতিপূরণের চেয়ে উত্তম।
- দান ভালো কাজ, কিন্তু অন্যের কষ্টের ওপর লাভ নেওয়া নিন্দিত।
