১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৯৯-[১] - দেউলিয়ার কাছে নিজের মাল পাওয়ার অধিকার
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - প্রথম অনুচ্ছেদ
দেউলিয়া ব্যক্তির কাছে নিজের মাল পেলে কার অধিকার আগে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮৯৯-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮৯৯-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا رَجُلٍ أَفْلَسَ فَأَدْرَكَ رَجُلٌ مَالَهُ بِعَيْنِهِ فَهُوَ أَحَق بِهِ من غَيره»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি দেউলিয়াগ্রস্ত বলে গণ্য হবে, যে তার কাছে নিজের মাল হুবহু পাবে, সে তার অন্য পাওনাদার অপেক্ষা অগ্রাধিকারযোগ্য হবে।
[১] সহীহ : বুখারী ২৪০২, মুসলিম ১৫৫৯, আবূ দাঊদ ৩৫১৯, ইবনু মাজাহ ২৩৫৮, আহমাদ ৯৩২০, ইরওয়া ১৪৪২, সহীহ আল জামি‘ ৫৯৯৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৯৯-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেউলিয়া ব্যক্তির সম্পদে পাওনাদারের অধিকার নিয়ে একটি স্পষ্ট নিয়ম এসেছে। কেউ যদি দেউলিয়া বলে গণ্য হয় এবং কোনো ব্যক্তি তার কাছে নিজের মাল হুবহু অবস্থায় পায়, তাহলে সে অন্য পাওনাদারের তুলনায় ওই মালের বিষয়ে বেশি অধিকারী হবে। এখানে মূল কথা হলো, মালটি যদি এখনও আলাদা ও চেনা অবস্থায় থাকে, তবে প্রকৃত মালিকের অধিকার বিবেচিত হবে। দেউলিয়া অবস্থায় অনেক পাওনাদারের দাবি থাকতে পারে, তাই ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন জরুরি। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ঋণ ও দেনার জটিল অবস্থাতেও কার সম্পদ কার—এটি স্পষ্টভাবে দেখা দরকার এবং অন্যের মালকে সাধারণ সম্পদের মতো ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দেউলিয়া অবস্থায়ও প্রকৃত মালিকের অধিকার বিবেচনা করতে হয়।
- নিজের মাল হুবহু পাওয়া গেলে তার দাবি আলাদা গুরুত্ব পায়।
- ঋণ ও পাওনার বিষয়ে ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত জরুরি।
- লেনদেনে মালিকানা পরিষ্কার রাখা ভবিষ্যৎ বিরোধ কমায়।
