১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯০০-[২] - ঋণগ্রস্তকে সাহায্য ও পাওনাদারের ন্যায়নীতি
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ঋণগ্রস্তকে সাহায্য ও বাস্তবতার ন্যায়নীতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯০০-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯০০-[২]
وَعَن أبي سعيد قَالَ: أُصِيبَ رَجُلٌ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ثِمَارٍ ابْتَاعَهَا فَكَثُرَ دينه فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ» فَتَصَّدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِك وَفَاء دينه فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِغُرَمَائِهِ «خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ وَلَيْسَ لَكُمْ إِلَّا ذَلِك». رَوَاهُ مُسلم
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর সময়ে ফল-ফলাদি ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভীষণ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকেদেরকে বললেন, তাকে দান-- খয়রাতের মাধ্যমে সাহায্য কর। এমতাবস্থায় লোকেরা তাকে দান-খয়রাত করল, কিন্তু তাতে তার ঋণ পরিশোধ যথেষ্ট হলো না। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তির পাওনাদারগণকে ডেকে বললেন, যা সমুপস্থিত আছে তা তোমরা আদায় করে নাও; এর অতিরিক্ত আর পাবে না (মাওকূফ করে দাও)।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৫৬, আবূ দাঊদ ৩৪৬৯, নাসায়ী ৪৫৩০, তিরমিযী ৬৫৫, ইবনু মাজাহ ২৩৫৬, আহমাদ ১১৩১৭, ইরওয়া ১৪৩৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯০০-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তির কথা এসেছে, যিনি ফল-ফলাদি কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم লোকদের তাঁকে দান করে সাহায্য করতে বললেন। মানুষ দান করল, কিন্তু তাতেও ঋণ পূর্ণ হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পাওনাদারদের বললেন, যা পাওয়া যাচ্ছে তা নিয়ে নাও; এর বেশি তোমরা পাবে না। এখানে দুইটি বড় শিক্ষা আছে। প্রথমত, ঋণগ্রস্ত বিপদে পড়লে সমাজ তাকে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, পাওনাদারদেরও বাস্তব অবস্থা বুঝে ন্যায্য সীমায় থামতে হবে। ইসলাম মানুষের কষ্ট কমাতে দান, সহানুভূতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধান শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণে বিপদে পড়া মানুষকে দান দিয়ে সাহায্য করা উচিত।
- পাওনাদারদের বাস্তব অবস্থা বুঝে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হয়।
- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে অপমান নয়, সহায়তা করা নববী শিক্ষা।
- দেনা-পাওনায় দয়া ও ন্যায়ের ভারসাম্য রাখা দরকার।
