১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯০১-[৩] - ঋণগ্রস্তকে ছাড় দেওয়ার ফজিলত
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ঋণগ্রস্তকে ছাড় দেওয়ার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯০১-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯০১-[৩]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ رجل يدائن النَّاسَ فَكَانَ يَقُولُ لِفَتَاهُ: إِذَا أَتَيْتَ مُعْسِرًا تجَاوز عَنهُ لَعَلَّ الله أَن يَتَجَاوَزُ عَنَّا قَالَ: فَلَقِيَ اللَّهَ فَتَجَاوَزَ عَنْهُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : এক ব্যক্তি লোকেদেরকে ধার দিত। সে তার কর্মচারীকে বলে দিত, কোনো পাওনাদারকে (ঋণ পরিশোধে) অক্ষম দেখলে তাকে মুক্তি দিয়ে দিও। এর ওয়াসীলায় হয়তো আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে মুক্তি দিবেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন : অতঃপর (মৃত্যুর পর) ঐ ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে পৌঁছলে আল্লাহ তা'আলা তাকে মুক্তি করে দিলেন।
[১] সহীহ : বুখারী ২০৭৮, মুসলিম ১৫৬২, আহমাদ ৭৫৭৯, সহীহ আল জামি‘ ৪৪৫৪।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯০১-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণ মাফ ও ঋণগ্রস্তকে ছাড় দেওয়ার বড় শিক্ষা এসেছে। এক ব্যক্তি মানুষকে ধার দিত। সে তার কর্মচারীকে বলত, কোনো ঋণীকে পরিশোধে অক্ষম দেখলে তাকে ছাড় দিয়ে দিও। তার আশা ছিল, এ দয়ার কারণে আল্লাহও তাকে ছাড় দেবেন। হাদিসে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পর সে আল্লাহর দরবারে পৌঁছলে আল্লাহ তাকে মুক্তি করে দিলেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মানুষের সাথে নরম আচরণ করা আল্লাহর রহমত লাভের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে অক্ষম ঋণগ্রস্তের প্রতি দয়া, ঋণ মাওকূফ বা সহজ করা ইসলামে প্রশংসনীয় কাজ। তবে হাদিসটি অক্ষম ব্যক্তির কথা বলছে, ইচ্ছা করে ঋণ না দেওয়া ব্যক্তির কথা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অক্ষম ঋণগ্রস্তকে ছাড় দেওয়া আল্লাহর ক্ষমার আশা করার একটি কারণ।
- মানুষের সাথে দয়া করলে আল্লাহর কাছ থেকেও দয়ার আশা করা যায়।
- ঋণ আদায়ে কঠোরতার বদলে অসহায় মানুষের অবস্থা দেখা উচিত।
- কর্মচারী বা প্রতিনিধিকেও ন্যায় ও দয়ার নির্দেশ দেওয়া ভালো কাজ।
