১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯০৪-[৬] - ঋণীকে ছাড় ও আল্লাহর ছায়া
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - প্রথম অনুচ্ছেদ
অক্ষম ঋণীকে ছাড় দিলে আল্লাহর ছায়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯০৪-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯০৪-[৬]
وَعَنْ أَبِي الْيَسَرِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ عَنْهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ». رَوَاهُ مُسلم
আবুল ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি অক্ষম ঋণীকে সময়দান করবে অথবা তার ঋণ মাওকূফ করবে, আল্লাহ তা'আলা (ক্বিয়ামাত দিবসে) তাকে তাঁর ছায়া দান করবেন।
[১] সহীহ : মুসলিম ৩০০৬, আহমাদ ১৫৫২১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫০৪৪, সহীহ আল জামি‘ ৬১০৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯০৪-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণীকে সময় দেওয়া বা ঋণ মাওকূফ করার একটি বিশেষ ফজিলত এসেছে। আবূ আল-ইয়াসার (রাঃ) বলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি অক্ষম ঋণীকে সময় দেবে অথবা তার ঋণ মাওকূফ করবে, আল্লাহ তাকে তাঁর ছায়া দান করবেন। হাদিসের ভাষা সংক্ষিপ্ত, কিন্তু শিক্ষা গভীর। ঋণদাতা যদি শুধু নিজের পাওনা আদায়ের দিকে না তাকিয়ে ঋণীর অক্ষমতা বুঝে, তাহলে এটি আল্লাহর কাছে মূল্যবান কাজ। এখানে মূল বিষয় হলো অক্ষম ঋণী। তাই সক্ষম ব্যক্তি ইচ্ছা করে বিলম্ব করলে এই হাদিস তার জন্য অজুহাত নয়। বরং যারা সত্যিই কষ্টে আছে, তাদের প্রতি নরম আচরণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অক্ষম ঋণীকে সময় দেওয়া আল্লাহর ছায়া লাভের আশা জাগায়।
- ঋণ মাওকূফ করা মানুষের কষ্ট কমানোর একটি পথ।
- ঋণ লেনদেনে দয়া ও ন্যায় দুটিই রাখা দরকার।
- সত্যিকারের অক্ষমতা বুঝে ঋণদাতার কোমল হওয়া উচিত।
