১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১৪-[১৬] - দেউলিয়া ব্যক্তির কাছে নিজের মাল পাওয়া
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দেউলিয়া ব্যক্তির কাছে নিজের মাল পেলে করণীয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯১৪-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯১৪-[১৬]
عَنْ أَبِي خَلْدَةَ الزُّرَقِيِّ قَالَ: جِئْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ فِي صَاحِبٍ لَنَا قَدْ أَفْلَسَ فَقَالَ: هَذَا الَّذِي قَضَى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا رَجُلٍ مَاتَ أَوْ أَفْلَسَ فَصَاحِبُ الْمَتَاعِ أَحَقُّ بِمَتَاعِهِ إِذَا وَجَدَهُ بِعَيْنِه». رَوَاهُ الشَّافِعِي وَابْن مَاجَه
আবূ খলদাহ্ আহ্ যুরাক্বী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমরা আমাদের সাথি এক ব্যব্যক্তি দেউলিয়াগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার ব্যাপারে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, এ জাতীয় বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কোনো ব্যব্যক্তি দেউলিয়া হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার কাছে যে ব্যক্তি তার কোনো বস্তু হুবহু সংরক্ষিত পায়, সেই তার অগ্রাধিকারী হবে।
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ ২৩৬০, মুসনাদুশ্ শাফি‘ঈ ৫৬৪, য‘ঈফ আল জামি‘ ২২৪১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১৪-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেউলিয়া ব্যক্তির সম্পদ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাসআলা বর্ণিত হয়েছে। আবূ খুলদাহ (রহ.) বলেন, তাঁদের এক সাথি দেউলিয়া হয়ে পড়লে তাঁরা আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)-এর কাছে যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সিদ্ধান্ত দিয়েছেন—কোনো ব্যক্তি মারা গেলে বা দেউলিয়া হয়ে গেলে, যার কোনো বস্তু তার কাছে হুবহু সংরক্ষিত পাওয়া যায়, সেই ব্যক্তি তার বস্তুর বেশি অধিকারী হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বস্তুটি হুবহু পাওয়া যাওয়া। সাধারণ ঋণের দাবি আর নিজের নির্দিষ্ট মাল অক্ষত অবস্থায় পাওয়া—দুইটি বিষয় এক নয়। তাই হাদিসটি দেউলিয়াত্ব, মালিকানা এবং পাওনাদারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে সতর্ক ও ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দেউলিয়া ব্যক্তির কাছে নিজের বস্তু হুবহু পাওয়া গেলে মালিকের অধিকার থাকে।
- ঋণ ও নির্দিষ্ট মালিকানার দাবির মধ্যে পার্থক্য আছে।
- লেনদেনে মালিকানা ও প্রমাণের বিষয় গুরুত্ব রাখে।
- দেউলিয়াত্বের ক্ষেত্রেও ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
