১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১৯-[২১] - সামর্থ্যবান ঋণীর গড়িমসি ও শাস্তি
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সামর্থ্যবান ঋণীর গড়িমসির পরিণতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯১৯-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯১৯-[২১]
وَعَنِ الشَّرِيدِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ» قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ: يُحِلُّ عِرْضَهُ: يُغَلَّظُ لَهُ. وَعُقُوبَتَهُ: يُحْبَسُ لَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ
শারীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : সামর্থ্যবান ব্যক্তি গড়িমসি করলে তাকে লজ্জিত করা এবং শাস্তি দেয়া জায়িয। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) বলেছেন, লজ্জিত করার অর্থ তার প্রতি কঠোর বাক্য প্রয়োগ করা, আর শাস্তি দেয়ার অর্থ তাকে জেলখানায় রাখা
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৩৬২৮, নাসায়ী ৪৬৮৯, ইবনু মাজাহ ২৪১৭, আহমাদ ১৭৯৪৬, ইরওয়া ১৪৩৪, সহীহ আল জামি‘ ৫৪৮৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৮১৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১৯-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সামর্থ্যবান ঋণগ্রহীতার গড়িমসি নিয়ে কঠোর সতর্কতা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তি গড়িমসি করলে তাকে লজ্জিত করা এবং শাস্তি দেওয়া জায়িয। বর্ণনায় ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, লজ্জিত করার অর্থ হলো তার প্রতি কঠোর কথা বলা, আর শাস্তি দেওয়ার অর্থ হলো তাকে আটক রাখা। এখানে বিষয়টি অক্ষম ঋণীর নয়; বরং যে সক্ষম হয়েও পাওনা আদায় করে না, তার ব্যাপারে। তাই এই হাদিস ঋণগ্রহীতাকে সতর্ক করে যে, সামর্থ্য থাকা অবস্থায় বিলম্ব করা অন্যের অধিকার নষ্ট করা। পাওনাদারের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও এতে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ শোধে গড়িমসি করা গুরুতর অন্যায়।
- পাওনাদারের অধিকার রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা আসতে পারে।
- অক্ষম ঋণী ও সক্ষম গড়িমসিকারী এক নয়।
- ঋণ শোধে দায়িত্বহীনতা সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
