১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১০-[১২] - ঋণ নেওয়ার নিয়ত ও পরিণতি
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ঋণ নেওয়ার আগে সৎ নিয়তের গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯১০-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯১০-[১২]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যে লোক পরিশোধের নিয়তে অপর লোকের মাল (ঋণরূপে) গ্রহণ করে, আল্লাহ তা'আলা তার ঋণ পরিশোধ করে দেন। আর যে লোক বিনষ্ট করার নিয়তে ঋণদাতার মাল গ্রহণ করে আল্লাহ তা'আলা তাকে ধ্বংস করে দেন।
[১] সহীহ : বুখারী ২৩৮৭, ইবনু মাজাহ ২৪১১, আহমাদ ৮৭৩৩, সহীহ আল জামি‘ ৫৯৮০, সহীহ আত্ তারগীব ১৭৯৯।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১০-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণ নেওয়ার নিয়ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের মাল ঋণ হিসেবে নেয় এবং তা পরিশোধের নিয়ত রাখে, আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধ করে দেন। আর যে ব্যক্তি বিনষ্ট করার নিয়তে মানুষের মাল নেয়, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন। হাদিসটি ঋণগ্রহীতার অন্তরের অবস্থার দিকে দৃষ্টি দেয়। ঋণ নেওয়া শুধু টাকা বা সম্পদের বিষয় নয়; এর সাথে আমানত, দায়িত্ব এবং নিয়ত জড়িত। কেউ সত্যিই শোধ করার ইচ্ছা নিয়ে ঋণ নিলে সে আল্লাহর সাহায্যের আশা করতে পারে। আর কেউ প্রতারণা বা ক্ষতির নিয়তে নিলে তা ভয়াবহ অন্যায়। তাই ঋণ নেওয়ার আগে সৎ উদ্দেশ্য ও পরিশোধের পরিকল্পনা থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণ নেওয়ার সময় পরিশোধের সৎ নিয়ত থাকা জরুরি।
- মানুষের সম্পদ নষ্ট করার নিয়ত বড় অন্যায়।
- ঋণ মানে আমানত ও দায়িত্ব—এটি হালকা বিষয় নয়।
- পরিশোধের ইচ্ছা ছাড়া ঋণ নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
