১২/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১৫-[১৭] - মুমিনের আত্মা ঋণের কারণে বাধাপ্রাপ্ত
দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঋণের কারণে মুমিনের আত্মা বাধাপ্রাপ্ত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯১৫-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯১৫-[১৭]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ». رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মুমিন তার ঋণের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে যতক্ষণ না তার পক্ষ হতে তা পরিশোধ করা হয়।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১০৭৮, ইবনু মাজাহ ২৪১৩, আহমাদ ১০৫৯৯, দারিমী ২৫৯৪, সহীহ আল জামি‘ ৬৭৭৯, সহীহ আত্ তারগীব ১৮১১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯১৫-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণের দায় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর সতর্কতা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মুমিন তার ঋণের কারণে বাধাপ্রাপ্ত থাকে, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করা হয়। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ঋণ শুধু দুনিয়ার হিসাব নয়; এটি মৃত্যুর পরও গুরুত্ব রাখে। কেউ ঋণ নিয়ে মারা গেলে তার পরিবার, অভিভাবক বা দায়িত্বশীলদের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা। একই সাথে জীবিত অবস্থায় ঋণগ্রহীতার উচিত ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা, পাওনাদারকে জানানো এবং অবহেলা না করা। হাদিসের শেষে তিরমিযী এটিকে গরীব বলেছেন—এ তথ্য বর্ণনার মান নিয়ে সতর্কতা হিসেবে এসেছে। তবে মূল শিক্ষা হলো ঋণকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত দায় থেকে যায়।
- মৃত ব্যক্তির ঋণ দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা করা উচিত।
- ঋণকে হালকা বিষয় মনে করা ঠিক নয়।
- পরিবারের কাছে ঋণের তথ্য জানিয়ে রাখা ভালো।
