৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯২-[৯৫] - সালাত শ্রেষ্ঠ আমল ও ওজুর যত্ন
পাক-পবিত্রতা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাত শ্রেষ্ঠ আমল, ওজুর যত্ন মুমিনের পরিচয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯২-[৯৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯২-[৯৫]
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَلَا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ اِلَّا مُؤْمِنٌ. رَوَاهُ مَالِك وأَحْمَدُ وابْن مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (হে মুমিনগণ!) তোমরা দ্বীনের উপর যথাযথভাবে অটল থাকবে। অবশ্য তোমরা সকল (কাজ) যথাযথভাবে করতে পারবে না, তবে মনে রাখবে তোমাদের সকল কাজের মধ্যে সালাতই হচ্ছে সর্বোত্তম। আর উযূর সব নিয়ম-কানুনের প্রতি মুমিন ব্যতীত অন্য কেউ লক্ষ্য রাখে না। [১]
[১] সহীহ : আহমাদ ২১৮৭৩, ইবনু মাজাহ্ ২৭৭, দারিমী ৬৫৫, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯২-[৯৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দ্বীনের উপর অটল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর বলেছেন, তোমরা সব কাজ পুরোপুরি হিসাব করে করতে পারবে না; তবে জেনে রাখো, তোমাদের কাজের মধ্যে সালাতই উত্তম। এই বাক্য আমাদের সালাতকে জীবনের কেন্দ্রে রাখার শিক্ষা দেয়। হাদিসের শেষে বলা হয়েছে, মুমিন ছাড়া কেউ ওজুর নিয়ম-কানুনের প্রতি ঠিকভাবে লক্ষ্য রাখে না। অর্থাৎ ওজুর যত্ন ঈমানি সচেতনতার একটি চিহ্ন। এখানে ওজু ও সালাতকে আলাদা করে দেখা হয়নি; বরং সালাতের জন্য ওজু এবং ওজুর যত্ন—দুটো একসঙ্গে এসেছে। তাই একজন মুমিনের উচিত দ্বীনে সোজা থাকা, সালাতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ওজুতে অবহেলা না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের উপর সোজা ও অটল থাকার নির্দেশ আছে।
- সালাত মুমিনের কাজের মধ্যে বড় আমল।
- ওজুর নিয়মে যত্নবান হওয়া মুমিনের লক্ষণ।
- সালাত ও ওজু একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
