৩/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০১-[২] - পাক-পবিত্রতা ও কবুল সালাত
যে কারণে ওজু করা ওয়াজিব হয় - প্রথম অনুচ্ছেদ
اَلْوُضُوْءُ(واوবর্ণে যম্মাযোগে) শব্দের অর্থ উযূ করা আরواوবর্ণে ফাতাহ যোগেاَلْوَضُوْءُ -এর অর্থ উযূর পানি। অত্র অধ্যায়ে ঐ সমস্ত বিষয় বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বিনষ্ট করে ফেলে এবং অন্য একটি উযূ (নতুন উযূ) আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।
পাক-পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবুল নয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩০১-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩০১-[২]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُوْلٍٍ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাক-পবিত্রতা ছাড়া সালাত এবং হারাম ধন সম্পদের দান-খায়রাত কবুল হয় না। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২২৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০১-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খুব সরল ভাষায় দুইটি বড় বিষয় বলেছেন। প্রথমটি হলো, পাক-পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবুল হয় না। তাই নামাজের আগে ওজু, গোসল বা প্রয়োজনীয় পবিত্রতা ঠিক আছে কি না—এটি একজন মুসলিমের জন্য বড় দায়িত্ব। দ্বিতীয়টি হলো, হারাম ধন-সম্পদ থেকে দান-খয়রাত কবুল হয় না। অর্থাৎ দান করার আগে উপার্জনের হালাল-হারাম দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো ইবাদত শুধু বাহ্যিক কাজ নয়; এর জন্য শরীরের পবিত্রতা এবং সম্পদের পবিত্রতাও জরুরি। সালাতের পবিত্রতা, হালাল উপার্জন এবং দানের শুদ্ধতা—তিনটি বিষয় একসাথে এই হাদিসে পরিষ্কার হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের আগে পাক-পবিত্রতা ঠিক রাখা জরুরি।
- হারাম সম্পদ দিয়ে দান করলে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার আশা করা যায় না।
- ইবাদতের বাহ্যিক কাজের সঙ্গে হালাল উপার্জনের সম্পর্ক আছে।
- মুসলিম জীবনে পবিত্রতা শুধু শরীরের নয়, সম্পদেরও বিষয়।
