৩/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০২-[৩] - মাযী বের হলে ওজুর হুকুম
যে কারণে ওজু করা ওয়াজিব হয় - প্রথম অনুচ্ছেদ
اَلْوُضُوْءُ(واوবর্ণে যম্মাযোগে) শব্দের অর্থ উযূ করা আরواوবর্ণে ফাতাহ যোগেاَلْوَضُوْءُ -এর অর্থ উযূর পানি। অত্র অধ্যায়ে ঐ সমস্ত বিষয় বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বিনষ্ট করে ফেলে এবং অন্য একটি উযূ (নতুন উযূ) আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।
মাযী বের হলে কী করতে হবে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩০২-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩০২-[৩]
وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً وَكُنْتُ أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَ النَّبِيَّ ﷺ لِمَكَانِ ابْنَتِه فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ فَسَأَلَه فَقَالَ يَغْسِلُ ذَكَرَه وَيَتَوَضَّأُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার অত্যধিক ‘মাযী’ বের হত। কিন্তু আমি নবী (ﷺ) কন্যার (ফাতিমার) স্বামী, তাই এ ব্যাপারে নবী (ﷺ)-কে কিছু জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। তাই আমি মাসআলাটি জানার জন্য নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করতে মিক্বদাদ (রাঃ)-কে বললাম। সে (নাম প্রকাশ ব্যতীত) রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল। তিনি (ﷺ) বললেন, এ অবস্থায় সে প্রথমে পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে ও তারপর ওযু করে নিবে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৩২, ১৭৮, ১৬৯, মুসলিম ৩০৩; শব্দবিন্যাস মুসলিমের।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০২-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) নিজের একটি ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলেছেন। তাঁর বেশি মাযী বের হতো। কিন্তু তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর স্বামী ছিলেন, তাই সরাসরি প্রশ্ন করতে লজ্জা পেতেন। তিনি মিকদাদ (রাঃ)-কে বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে বললেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উত্তর দিলেন, এ অবস্থায় পুরুষাঙ্গ ধুয়ে নিতে হবে এবং তারপর ওজু করতে হবে। এখানে মাযী ও ওজুর হুকুম খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। একই সঙ্গে বোঝা যায়, শরীয়তের দরকারি মাসআলা জানতে লজ্জা বাধা হওয়া উচিত নয়। তবে প্রশ্ন করার ভদ্র উপায়ও রাখা যায়। পবিত্রতা, ওজু এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা—সবই এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাযী বের হলে পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ওজু করতে হবে।
- দরকারি দ্বীনি মাসআলা জানতে লজ্জা দূর করতে হবে।
- ব্যক্তিগত বিষয়েও শরীয়তের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ভদ্রতা ও শালীনতা রাখা ভালো।
