১২/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০৭২-[৩] - সম্পদ ওয়াসিয়্যাতের পরিমাণ
ওসিয়ত (অন্তিম উপদেশ বা নির্দেশ) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) এর অভিধানিক অর্থ- প্রতিদান দেয়া, ‘আরবরা যখন কাউকে প্রতিদান দেয়, তখন তারা বলে অর্থাৎ- আমি তাকে পারিশ্রমিক প্রদান করলাম। ইবনু হাজার ‘আক্বালানী একে উল্লেখ করেছেন। আর ‘মুগরিব’-এ আছে, পরিভাষিক অর্থে- কোনো কিছুর বিনিময়ে কাউকে উপকার লাভের জন্য বস্তুর মালিক বানিয়ে দেয়া। আভিধানিক অর্থে তা শব্দের বিশেষ্য আর তা হলো শ্রমিক ভাড়া করা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
ওয়াসিয়্যাতের পরিমাণ: সব সম্পদ নয়, সীমার ভেতরে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩০৭২-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩০৭২-[৩]
عَن سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مَرِيضٌ فَقَالَ: «أَوْصَيْتَ؟» قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: «بِكَمْ؟» قُلْتُ: بِمَالِي كُلِّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. قَالَ: «فَمَا تَرَكْتَ لِوَلَدِكَ؟» قُلْتُ: هُمْ أَغْنِيَاءُ بِخَيْرٍ. فَقَالَ: «أوص بالعشر» فَمَا زَالَت أُنَاقِصُهُ حَتَّى قَالَ: «أَوْصِ بِالثُّلُثِ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রোগাগ্রস্ত হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ওয়াসিয়্যাত করার ইচ্ছা করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন, কি পরিমাণ? আমি বললাম, আমার সমস্ত ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে দিতে ইচ্ছা পোষণ করেছি। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমার সন্তানের জন্য কি রাখতে চাও? আমি বললাম, তারা বহু সম্পদের অধিকারী। তিনি বললেন, তারপরও তুমি এক-দশমাংশ ওয়াসিয়্যাত কর! সা'দ (রাঃ) বলেন, আমি সর্বদা তাঁকে ‘এটা কম হয়, এটা কম হয়' বলতে থাকলাম। পরিশেষে তিনি (ﷺ) বললেন, তবে এক-তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়্যাত করতে পার, আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক।
[১] সহীহ : তিরমিযী ৯৭৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০৭২-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসেও সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর অসুস্থ অবস্থার ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে দেখতে এসে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ওয়াসিয়্যাত করেছেন কি না। সা‘দ (রাঃ) বলেন, তিনি সব সম্পদ আল্লাহর পথে দিতে চান। নবী (صلى الله عليه وسلم) তখন জানতে চান, সন্তানদের জন্য কী রাখবেন। সা‘দ (রাঃ) জানান, তারা সম্পদশালী। তারপরও নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে এক-দশমাংশের কথা বলেন। সা‘দ (রাঃ) আরও বাড়ানোর অনুরোধ করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত এক-তৃতীয়াংশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং বলা হয়, এক-তৃতীয়াংশও বেশি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ভালো কাজে দান করতে চাইলেও ওয়ারিসদের অধিকার ভুলে যাওয়া যাবে না। ওয়াসিয়্যাতের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, ভারসাম্য ও সীমা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব সম্পদ ওয়াসিয়্যাত করতে চাওয়া এই বর্ণনায় অনুমোদিত হয়নি।
- সন্তান সম্পদশালী হলেও তাদের অধিকার বিবেচনা করা হয়েছে।
- ওয়াসিয়্যাতের সীমা হিসেবে এক-তৃতীয়াংশের কথা এসেছে।
- দান করতে চাইলে পরিবার ও ওয়ারিসদের দিকও দেখতে হয়।
