১২/১৯. অধ্যায়ঃ
ওসিয়ত (অন্তিম উপদেশ বা নির্দেশ) - প্রথম অনুচ্ছেদ
وَصَايَاশব্দটি বহুবচন, একবচনেوصيحةযাنصيةবা উপদেশ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন-وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِيْنَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللهَ’’আর আমি তোমাদের পূর্বে কিতাব যাদেরকে কিতাব দিয়েছি এবং তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৩১)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩০৭১-[২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩০৭১-[২]
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: مَرِضْتُ عَامَ الْفَتْحِ مَرَضًا أَشْفَيْتُ عَلَى الْمَوْتِ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: إِنَّ لِي مَالًا كَثِيرًا وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَتِي أَفَأُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ؟ قَالَ: «لَا» قُلْتُ: فَثُلُثَيْ مَالِي؟ قَالَ: «لَا» قُلْتُ: فَالشَّطْرِ؟ قَالَ: «لَا» قُلْتُ: فَالثُّلُثِ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ إِنْ تَذَرْ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا أُجِرْتَ بِهَا حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ»
সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাক্কাহ্ বিজয়ের বৎসর আমি এমন এক রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলাম, যা আমি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলাম। এমনি সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রচুর ধন-সম্পদ আছে, আর আমার একমাত্র কন্যা ছাড়া (ঔরসজাত) কোনো ওয়ারিস নেই। আমি কি আমার সমস্ত ধন-সম্পদ (অপর কারো জন্য) ওয়াসিয়্যাত করে যেতে পারব? তিনি (ﷺ) বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে কি দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি (ﷺ) বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক? তিনি (ﷺ) বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ; আর এক-তৃতীয়াংশও অতিরিক্ত। তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে দরিদ্র রেখে যাওয়া অপেক্ষা সচ্ছল রেখে যাওয়া তোমার জন্য উত্তম, যাতে তারা অন্যের নিকট যাচঞা না করে (হাত না পাতে)। তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে তোমার পরিবারের প্রতি যে খরচ করবে, নিশ্চয় এতেও তোমাকে সাওয়াব দেয়া হবে- এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে (খাদ্য) লোকমা উঠিয়ে দাও তাতেও।
[১] সহীহ : বুখারী ১২৯৫, মুসলিম ১৬২৮, তিরমিযী ২১১৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬০২৬, ইরওয়া ৮৯৯, সহীহ আল জামি‘ ১৩৮২।
