১২/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০৭৮-[৯] - ওয়ারিসের অংশ কেটে নেওয়ার সতর্কতা
ওসিয়ত (অন্তিম উপদেশ বা নির্দেশ) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ওয়ারিসের অংশ কাটা: মীরাসে অন্যায়ের ভয়াবহতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩০৭৮-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩০৭৮-[৯]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَطَعَ مِيرَاثَ وَارِثِهِ قَطَعَ اللَّهُ مِيرَاثَهُ مِنَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি ওয়ারিসদের উত্তরাধিকারের অংশ কেটেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তার জান্নাতের উত্তরাধিকারীর অংশ কেটে নিবেন।
[১] মাওযূ‘ : ইবনু মাজাহ ২৭০৩, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫২২৩। ‘আল্লামা বুসীরী বলেন : এর সনদে যায়দ আল ‘আম্মী এবং তার সন্তান ‘আবদুর রহীম উভয়েই মিথ্যুক রাবী।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০৭৮-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ওয়ারিসের উত্তরাধিকারের অংশ কেটে নেয়, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার জান্নাতের উত্তরাধিকার থেকে অংশ কেটে নেবেন। হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু মীরাসে অন্যায়ের বিষয়ে গভীর সতর্কতা বহন করে। কারো নির্ধারিত অংশ কমিয়ে দেওয়া, বঞ্চিত করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে তার হক আটকে রাখা ইসলামে গুরুতর ব্যাপার। এই বর্ণনা আমাদের মনে করায়, সম্পদ বণ্টন শুধু পারিবারিক বিষয় নয়; এটি আল্লাহর সামনে জবাবদিহির বিষয়। ফারায়িযের জ্ঞান না থাকলে ভুল হতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়ারিসের হক নষ্ট করা আরও ভয়াবহ। তাই উত্তরাধিকার বণ্টনে ন্যায্যতা, আমানতদারি ও হকদারের অধিকারকে সামনে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়ারিসের নির্ধারিত অংশ কেটে নেওয়া কঠোরভাবে নিন্দিত।
- মীরাসের অন্যায় কেয়ামতের জবাবদিহির সঙ্গে যুক্ত।
- উত্তরাধিকার বণ্টনে আল্লাহভীতি থাকা দরকার।
- ফারায়িযের জ্ঞান না থাকলে হক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
