১৩/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২০৭-[৪] - মুহর নির্ধারণ ছাড়াই মৃত্যু

মুহর - প্রথম অনুচ্ছেদ

আন্ নিহায়াহ্ গ্রন্থে রয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তির যিনায় লিপ্ত হওয়ার আশংকা থাকে, এমনকি যদি নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব না হয় তবে তার জন্য বিবাহ করা ফার। আর যদি স্ত্রীর চাহিদা মেটাতে না পারার আশংকা থাকে তবে বিবাহ করা মাকরূহ।দাউদ আয্ যাহিরী ও তার অনুসারীদের মতে, স্ত্রী সহবাস ও স্ত্রীর খরচ বহনে সক্ষম ব্যক্তির ওপর বিবাহ করা ফারযে আইন। যেমন আল্লাহ তা‘আলার কথা : অর্থাৎ- “নারীদের মধ্য হতে যাদের তোমাদের ভালো লাগে তাদের বিবাহ কর।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৩)তবে বিবাহের ক্ষেত্রে ‘উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। কারো মতে ফারযে কিফায়াহ্, কারো মতে ওয়াজিব কিফায়াহ্, কারো মতে মুস্তাহাব আবার কারো মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ (গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত) আর এটাই অধিক বিশুদ্ধ মত এবং তা ‘ইবাদাতের অতি নিকটবর্তীও বটে। এমন বৈবাহিক জীবনে ব্যস্ত থাকা বিবাহ মুক্ত থাকার চেয়ে অনেক উত্তম। তবে ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ)-এর মতে বিবাহ মুক্ত হয়ে ‘ইবাদাতে মশগুল থাকাই উত্তম।‘আল্লামাহ্ নাবাবী (রহঃ) বলেন : সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বিবাহ করা মুস্তাহাব। অন্যথায় বিবাহ মুক্ত থেকে ‘ইবাদাতে ব্যস্ত থাকাই উত্তম। এটা জুমহূর ‘উলামাগণের মত। আবূ হানীফাহ্ ও ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ)-এর কতিপয় অনুসারী এবং ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে বিবাহ করাই উত্তম। সামর্থ্য না থাকলে বিবাহ করা মাকরূহ।

মুহর নির্ধারণ না হলে স্ত্রীর অধিকার

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২০৭-[৪]

وَعَنْ عَلْقَمَةَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ: أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا شَيْئا وَلم يدْخل بهَا حَتَّى مَاتَ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: لَهَا مِثْلُ صَدَاقِ نِسَائِهَا. لَا وَكْسَ وَلَا شَطَطَ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ وَلَهَا الْمِيرَاثُ فَقَامَ مَعْقِلُ بْنُ سِنَانٍ الْأَشْجَعِيُّ فَقَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشَقٍ امْرَأَةٍ مِنَّا بِمِثْلِ مَا قَضَيْتَ. فَفَرِحَ بِهَا ابْنُ مَسْعُودٍ.رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ والدارمي

‘আক্বমাহ্ (রহঃ) ইবনু মাস্‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এক ব্যক্তি মোহর নির্ধারণ না করে বিয়ে করেছে এবং স্ত্রীর সাথে সহবাসের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছে; শারী'আতে এর বিধান কি? উত্তরে ইবনু মাস'উদ (রাঃ) বললেন, তার পরিবারের অপর নারীদের মোহরের সমপরিমাণ মোহর দিতে হবে। তা হতে কমও নয়, বেশিও নয় এবং স্ত্রীর ‘ইদ্দাত (৪ মাস ১০ দিন) পালন করতে হবে এবং স্ত্রী তার উত্তরাধিকারী হবে। এটা শুনে আল্জা'ঈ গোত্রের এক সাহাবী মাক্কিল ইবনু সিনান দাঁড়িয়ে বললেন, আমাদের আন্জা'ঈ গোত্রের এক স্ত্রীলোক বিরওয়া' বিনতু ওয়াশিক সম্পর্কেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুরূপ বিধান কার্যকরী করেন। এতে ইবনু মাস'উদ (রাঃ) অত্যন্ত খুশী হলেন।

[১] সহীহ : তিরমিযী ১১৪৫, আবূ দাঊদ ২১১৪-১৫, নাসায়ী ৩৩৫৪, দারিমী ২২৫২, ইরওয়া ১৯৯৩৯।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২০৭-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এমন একটি বিবাহের বিধান এসেছে, যেখানে স্বামী মুহর নির্ধারণ না করে বিয়ে করেছে এবং স্ত্রীর সাথে সহবাসের আগেই মারা গেছে। ইবনু মাসউদ রাঃ বলেন, স্ত্রী তার পরিবারের অন্য নারীদের সমপরিমাণ মুহর পাবে; কমও নয়, বেশিও নয়। পাশাপাশি তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে স্বামীর উত্তরাধিকারী হবে। পরে মাক্কিল ইবনু সিনান রাঃ জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বিরওয়া বিনতু ওয়াশিকের ব্যাপারেও একই রকম ফয়সালা করেছিলেন। এতে ইবনু মাসউদ রাঃ আনন্দিত হন। এই হাদিসে স্ত্রীর অধিকার খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। মুহর আগে নির্ধারিত না হলেও বিবাহের কারণে তার আর্থিক অধিকার, ইদ্দত এবং উত্তরাধিকার বাতিল হয় না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুহর নির্ধারিত না হলেও স্ত্রীর অধিকার থাকে।
  • স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রী ইদ্দত পালন করবে।
  • বৈধ বিবাহে স্ত্রী উত্তরাধিকারী হতে পারে।
  • ফয়সালায় সমতা রাখা জরুরি—কমও নয়, বেশিও নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন