১৩/৭. অধ্যায়ঃ
মুহর - প্রথম অনুচ্ছেদ
আন্ নিহায়াহ্ গ্রন্থে রয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তির যিনায় লিপ্ত হওয়ার আশংকা থাকে, এমনকি যদি নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব না হয় তবে তার জন্য বিবাহ করা ফার। আর যদি স্ত্রীর চাহিদা মেটাতে না পারার আশংকা থাকে তবে বিবাহ করা মাকরূহ।দাউদ আয্ যাহিরী ও তার অনুসারীদের মতে, স্ত্রী সহবাস ও স্ত্রীর খরচ বহনে সক্ষম ব্যক্তির ওপর বিবাহ করা ফারযে আইন। যেমন আল্লাহ তা'আলার কথা : অর্থাৎ- “নারীদের মধ্য হতে যাদের তোমাদের ভালো লাগে তাদের বিবাহ কর।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৩)তবে বিবাহের ক্ষেত্রে ‘উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। কারো মতে ফারযে কিফায়াহ্, কারো মতে ওয়াজিব কিফায়াহ্, কারো মতে মুস্তাহাব আবার কারো মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ (গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত) আর এটাই অধিক বিশুদ্ধ মত এবং তা 'ইবাদাতের অতি নিকটবর্তীও বটে। এমন বৈবাহিক জীবনে ব্যস্ত থাকা বিবাহ মুক্ত থাকার চেয়ে অনেক উত্তম। তবে ইমাম শাফি'ঈ (রহঃ)-এর মতে বিবাহ মুক্ত হয়ে ‘ইবাদাতে মশগুল থাকাই উত্তম।‘আল্লামাহ্ নাবাবী (রহঃ) বলেন : সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বিবাহ করা মুস্তাহাব। অন্যথায় বিবাহ মুক্ত থেকে ‘ইবাদাতে ব্যস্ত থাকাই উত্তম। এটা জুমহূর ‘উলামাগণের মত। আবূ হানীফাহ্ ও ইমাম শাফি'ঈ (রহঃ)-এর কতিপয় অনুসারী এবং ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে বিবাহ করাই উত্তম। সামর্থ্য না থাকলে বিবাহ করা মাকরূহ।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩২০৬-[৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩২০৬-[৩]
وَعَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ: أَنَّ امْرَأَةً مَنْ بَنِي فَزَارَةَ تَزَوَّجَتْ عَلَى نَعْلَيْنِ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَرَضِيتِ مِنْ نَفْسِكِ وَمَالِكِ بِنَعْلَيْنِ؟» قَالَتْ: نَعَمْ. فَأَجَازَهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
‘আমির ইবনু রবী'আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বানী ফাযারহ্ গোত্রের জনৈকা রমণীর (মুহর বাবদ) এক জোড়া জুতার বিনিময়ে বিবাহ হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এক জোড়া জুতার বিনিময়ে তোমাকে অর্পণ করতে রাজি হয়েছ? সে বলল, জি, হ্যাঁ। তখন তিনি (ﷺ) তার বিবাহের সম্মতি দিলেন।
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১১১৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৭৮৯, ইরওয়া ১৯২৬। কারণ এর সনদে ‘আসিম বিন ‘উবায়দুল্লাহ একজন দুর্বল রাবী।
