১৩/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২২২-[১৩] - দাওয়াত গ্রহণ ও বিনা দাওয়াতে যাওয়ার আদব
ওয়ালিমা (বৌভাত) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দাওয়াত গ্রহণের আদব ও সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২২২-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২২২-[১৩]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ دُعِيَ فَلَمْ يُجِبْ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَمن دخل على غَيْرِ دَعْوَةٍ دَخَلَ سَارِقًا وَخَرَجَ مُغِيرًا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি দাওয়াত পেয়ে (ওবিহীনভাবে) প্রত্যাখ্যান করে, সে আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যাচরণ করল। আর যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে আসলো সে যেন চোর সেজে ঢুকেছে এবং লুণ্ঠনকারীরূপে বের হয়ে গেছে।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৭৪১, ইরওয়া ১৯৫৪, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৫৭৯, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৩০২। কারণ এর সনদে দুরুস্ত বিন যিয়াদ একজন দুর্বল রাবী আর আবান বিন ত্বরিক মাজহূল।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২২২-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দাওয়াতের আদব খুব স্পষ্টভাবে শিখিয়েছেন। কেউ দাওয়াত পেয়ে কোনো কারণ ছাড়া তা প্রত্যাখ্যান করলে সে আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্য হলো বলে বলা হয়েছে। আবার যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে কারও খাবারের জায়গায় যায়, তাকে চোরের মতো প্রবেশকারী এবং লুণ্ঠনকারীর মতো বের হওয়া ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে। এ ভাষা খুব কঠোর, তাই বিষয়টি হালকা নয়। ইসলামে দাওয়াত শুধু খাবারের বিষয় নয়; এতে মানুষের সম্মান, সম্পর্ক, অনুমতি ও সামাজিক শৃঙ্খলা জড়িত। দাওয়াত পেলে তা গুরুত্ব দেওয়া উচিত, আর বিনা দাওয়াতে গিয়ে অন্যের ঘর বা আয়োজনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাওয়াত পেলে অকারণে তা প্রত্যাখ্যান করা ঠিক নয়।
- বিনা দাওয়াতে কারও খাবারের আয়োজনে যাওয়া অশোভন আচরণ।
- দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্মান রক্ষা হয়।
- অন্যের ঘর ও খাবারের ব্যাপারে অনুমতি ও শালীনতা মানা দরকার।
