১৩/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৩৬-[৮] - দুই স্ত্রীর মাঝে অন্যায় করার ভয়াবহতা
ভাগ-বণ্টন (সহধর্মিণীদের মধ্যে পালা নিরূপণ প্রসঙ্গে) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দুই স্ত্রীর মাঝে অন্যায় করার ভয়াবহতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৩৬-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৩৬-[৮]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانَتْ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ سَاقِطٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدارمي
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যদি কোনো পুরুষের দু'জন সহধর্মিণী থাকে আর সে তাদের মধ্যে যদি ন্যায়বিচার না করে, তবে সে কিয়ামতের দিন একপাশ ভঙ্গ (অঙ্গহীন) অবস্থায় উঠবে।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১১৪১, আবূ দাঊদ ২১৩৩, ইবনু মাজাহ ১৯৬৯, নাসায়ী ৩৯৪২, আহমাদ ৭৯৩৬, সহীহ আল জামি‘ ৭৬১, সহীহ আত্ তারগীব ১৯৪৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৩৬-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো পুরুষের যদি দুইজন স্ত্রী থাকে এবং সে তাদের মাঝে ন্যায় না করে, তাহলে কিয়ামতের দিন সে একপাশ ভঙ্গ অবস্থায় উঠবে। এখানে বার্তাটি খুব স্পষ্ট: একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার কোনো হালকা বিষয় নয়। পালা, সময়, আচরণ ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে পক্ষপাত করা ভয়াবহ অন্যায় হতে পারে। হাদিসটি অতিরঞ্জন ছাড়া সরাসরি সতর্ক করে—যে দায়িত্ব নিতে পারবে না, তার উচিত বিষয়টি খুব গভীরভাবে ভাবা। স্ত্রীদের অধিকার অবহেলা করা শুধু পারিবারিক সমস্যা নয়; এর জবাবদিহি আখিরাতেও আছে। তাই একাধিক স্ত্রীর অধিকার নিয়ে হাদিস খুঁজলে এই বর্ণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই স্ত্রীর মাঝে ন্যায় না করা কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
- স্ত্রীর অধিকার অবহেলা আখিরাতের জবাবদিহির বিষয়।
- পক্ষপাত থেকে বাঁচতে দায়িত্ব ও সময় বণ্টনে সতর্ক থাকা দরকার।
- যে দায়িত্ব পালন করা কঠিন, তা গ্রহণের আগে ভেবে দেখা উচিত।
