১৩/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২২৯-[১] - স্ত্রীদের মাঝে পালা বণ্টনের শিক্ষা
ভাগ-বণ্টন (সহধর্মিণীদের মধ্যে পালা নিরূপণ প্রসঙ্গে) - প্রথম অনুচ্ছেদ
الْقَسْمِশব্দটির ‘কফ’ বর্ণে যবর এবং ‘সীন’ বর্ণে সাকীন যোগে মাসদার বা শব্দমূল হিসেবে পঠিত হয়। অর্থ ভাগ-বণ্টনে করা শরীক বা অংশীদারদের মাঝে প্রাপ্য অংশ বণ্টন করে দেয়া। অনুরূপ স্ত্রীদের মাঝে পালি বণ্টন করা, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীদের নিকট (পালাক্রমিক) রাত যাপন করা। ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীর মাঝে সমতা বিধান করা, একেই নামকরণ করা হয়েছে ‘স্ত্রীদের মাঝে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা’। এই ন্যায়বিচার আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি রাতের পালার ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে প্রযোজ্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
স্ত্রীদের মাঝে পালা বণ্টনের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২২৯-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২২৯-[১]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبِضَ عَنْ تِسْعِ نِسْوَةٍ وَكَانَ يقسم مِنْهُنَّ لثمان
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের সময় নয়জন সহধর্মিণী ছিল। তন্মধ্যে (বিবি সাওদাহ্ (রাঃ) ব্যতীত) আটজনের জন্য পালা বণ্টন করতেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৫০৬৭, মুসলিম ১৪৫৬, নাসায়ী ৩১৯৬, আহমাদ ২০৪৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২২৯-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইন্তিকালের সময় তাঁর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আটজনের জন্য তিনি পালা বণ্টন করতেন। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত হলেও এতে পরিবার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে: একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে সময় ও রাত যাপনের বিষয়ে ন্যায় বজায় রাখা। হাদিসটি সরাসরি ভালোবাসার মনের অবস্থার কথা বলছে না; বরং পালা বণ্টনের বাস্তব দিকটি জানাচ্ছে। স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়বিচার, সময়ের হিসাব এবং দায়িত্বশীল আচরণ—এগুলো পরিবার জীবনের বড় শিক্ষা। এই কারণে স্ত্রীর পালা বণ্টন সম্পর্কে হাদিস খুঁজলে এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণভাবে সামনে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে পালা বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- পরিবার জীবনে ন্যায় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা দরকার।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে স্ত্রীদের অধিকার গুরুত্ব পেয়েছে।
- সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও পারিবারিক ন্যায়ের বড় শিক্ষা দেয়।
